নিজস্ব প্রতিবেদক »
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাসিন্দা শফিকুল আলম। দীর্ঘদিন কোমরের অসহ্য ব্যথায় দিন পার করছিলেন। অবশেষে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসার পর তিনি এখন আগের চেয়ে সুস্থ আছেন।
শফিকুল আলম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বসে কাজ করার কারণে কোমরের ব্যথা বেড়ে যায়। গত এক মাস আগে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি। এখন আগের চেয়ে সুস্থ।
ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করেছে অ্যাপোলো হাসপাতাল। সম্প্রতি চেন্নাইয়ের একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে বর্ণাঢ্য এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাফল্য উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের অর্ধশত রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
অ্যাপোলো হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজ করতে আগামীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে টেলিমেডিসিন এবং টেলি-রেডিওলজি সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সেবার পরিধিও ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যাপোলোর ৫টি তথ্য কেন্দ্র (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ) চালু আছে। শীঘ্রই সিলেটে নতুন শাখা চালু হবে।
অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো চেন্নাই হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নাভিন ভি বলেন, ভারতের বৃহত্তম হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে কার্ডিওলজিস্ট ড. প্রতাপ চন্দ্র রেড্ডির হাত ধরে। বর্তমানে কেবল চেন্নাই অঞ্চলেই ১০টিরও বেশি হাসপাতাল আছে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে অ্যাপোলোর অগ্রযাত্রার অনেক এগিয়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অ্যাপোলোই প্রথম ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত আধুনিক ‘প্রোটন বিম থেরাপি’ নিয়ে আসে। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ক্লিনিক্যাল আউটকাম এবং রোবটিক সার্জারির অনন্য বেঞ্চমার্কের কারণেই বাংলাদেশিরা রোগীরা এ হাসপাতালের ওপর আস্থা রেখেছেন।
অ্যাপোলো হসপিটালসের রিজিওনাল সিইও ডা. ইলেন কুমারান কে. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রশংসনীয়। এই পাঁচ লাখের মাইলস্টোন মূলত একটি গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। দুই দেশের ভৌগোলিক সীমানা আলাদা হলেও, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীতের সুর আমাদের এক সুতোয় বেঁধেছে। ভারত ও বাংলাদেশের চমৎকার কালচারাল কানেকশনের কারণে রোগীরা এখানে এসে নিজেদের বাড়ির মতো কমফোর্ট ও কনফিডেন্স পান। চিকিৎসার পর রোগীরা যাতে নিজেদের দেশেই ফলোআপ করতে পারেন, সেজন্য আমরা বাংলাদেশে মাল্টিপল ক্লিনিক করার পরিকল্পনা করছি।
দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক বলেন, চেন্নাই বিভিন্ন সময়েই বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম পছন্দের ডেস্টিনেশন। পাঁচ লাখের এই বিশাল সংখ্যাটিই প্রমাণ করে রোগীরা এখানে এসে কেমন সেবা পাচ্ছেন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাইয়ে আসা যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিককে যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।
এপোলো হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরু প্রসাদ বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের সুবিধার্থে এবং তাঁদের ফলোআপ কেয়ার সহজ করতে ইতিমধ্যেই আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ এবং অনুমতি সাপেক্ষে টেলিমেডিসিন সেন্টার চালুর পরিকল্পনা আমাদের পাইপলাইনে আছে।
এপোলো হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেস্কের ইনচার্জ সানজিৎ নায়েকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাপোলো হাসপাতালের বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দ রিফাত ফারুক।



















































