মা দূরে নয় কাছে
সনজিত দে
মাকে ছাড়া এই নগরে
কত্তো দূরে থাকি,
প্রাণ ছটফট করে কেবল
মা জানে আর তা কি?
আহা যদি পাখি হতাম
ছুটে যেতাম উড়ে,
তখন কি আর মা কাছে নেই
মনে হত দূরে ?
মায়ের সাথে রোজই দেখা
ব্যাপার ছিল কোনো ?
পাখি হলে মনের ইচ্ছে
পূরণ করব শোনো।
হঠাৎ পেলাম উটকো দুটো
স্বপ্নলোকের ডানা
পাখি হলাম উড়ে যেতে
নেই বাধা ভয় মানা ।
মায়ের সাথে রোজ কথা হয়
দেখতে যে পাই বাড়ি
দূরটা এখন এত্তো কাছে
ভাবতে কি আর পারি?
আষাঢ়ের ছবি
বিজন বেপারী
আষাঢ় এলে কদম ফুলে
বৌরানি ঠিক সাজে
হেসে হেসে চেয়ে থাকে
আপন পাতার মাঝে।
আষাঢ় এলে বৃষ্টি নামে
হঠাৎ হঠাৎ ভারি
ভিজিয়ে দেয় আঙিনার ধান
ভিজায় শুকনো গাড়ি।
আষাঢ় এলে পানের বরজ
ভরে ওঠে পানে
নদী খালে নতুন জোয়ার
তীব্র বেগে টানে।
মেঘের নুপুর
আল আমিন মুহাম্মাদ
শুকনো পাতার নৌকো ভাসে পুকুরে,
কোথায় গেলি দেখ না এসে খুকুরে!
পুবাল হাওয়া বইছে কেমন দুপুরে,
রিনিঝিনি বাজবে মেঘের নূপুরে।
আকাশ থেকে ঝরবে মিষ্টি পানি রে,
বিজলি মেয়ের নৃত্য হবে জানি রে।
সূর্য মামা টানবে ঘোমটা-খানি রে,
মেঘের জলে ভিজবে খুকুর নানি রে!
মনের ক্ষুধা
বাসুদেব খাস্তগীর
বড় ভাইয়া বসে বসে
ঘরে বাজায় পিয়ানো
মা এসে কয় রান্না করবো
তাড়াতাড়ি ঘি আনো।
বাসমতি চাল লবণ মরিচ
আনবে খাসির গোশতও
ভুলে যেন না যাও তুমি
আনবে ভালো পোস্তও।
কোরমা পোলাও রান্না হবে
দেবো সাথে পায়েসও
ঘ্রাণে পাগল হয়ে বলবে
মজা করে খাই এসো।
ভাইয়া বলে ঠিক শুনি নাই
কী বলেছো আমাকে?
মনের ক্ষুধা মিটাতে আজ
ধরছি সারেগামাকে।
বর্ষাকালের বৃষ্টি সুখ
মোশতাক আহমেদ
আয় রে আষাঢ় আয় রে শ্রাবণ
আয় রে বর্ষাকাল
ডাক দিয়েছে সাগর নদী
পুকুর ডোবা নাল।
ডাক দিয়েছে মেঘকন্যা
বৃষ্টি প্লাবন ঝড় বন্যা
গ্রীস্ম খরায় পুড়ে যাওয়া
তপ্ত মাটি গরম হাওয়া-
মেঘলা আকাশ নূইয়ে পড়ে
বৃষ্টি হাওয়া শীতল করে,
উষর মরুর ধূসর বুকে
আয় ঝরে যা বৃষ্টি সুখে-
দে ভিজিয়ে শুকিয়ে মরা
তালতমালের ডাল।
পাহাড় টিলা বন বনানী
নদীর জোয়ার মিষ্টি পানি
দে ভরে দে মেঘের রাণী
বৃষ্টি দিয়ে পুকুরখানি।
আয় রে আষাঢ় আয় রে শ্রাবণ
আয় রে বর্ষাকাল
নদীরজলে নাও ভাসিয়ে-
উড়িয়ে দে তুই পাল।




















































