চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে দেশ চালানোর দাবি 

0
72

শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলা

সুপ্রভাত ডেস্ক :

সব সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার করে বাংলাদেশকে চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত করার দাবি উঠেছে চট্টগ্রামের এক সমাবেশ থেকে।

রোববার নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী তরুণ উদ্যোগের আয়োজনে সমাবেশ থেকে এ দাবি ওঠে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটফোর। সমাবেশ থেকে শাল্লাসহ দেশের সব সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করা হয়।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশা, রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ সমাবেশে অংশ নেন। কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “অত্যন্ত দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেও আমাদের মৌলবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে আমরা অংশ নিয়েছিলাম জাতি ধর্ম বর্ণ এবং নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে। সেই লড়াইয়ের ফসল বাংলাদেশ।

“বঙ্গবন্ধু এমন একটি সংবিধান করেছিলেন যাতে ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল না। বাংলাদেশ চিরকাল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। অসাম্প্রদায়িক উত্তরাধিকার বহন করে বাংলাদেশের জন্ম। আত্মপরিচয়ের জন্য হাজার বছরের ঐতিহ্য রক্ষায় যে যুদ্ধ আমরা করেছিলাম তা যেন হারিয়ে না যায়।” সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার বলেন, “একাত্তরে আমরা মৃত্যুর পরোয়া না করে যুদ্ধ করেছি। চার বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যও দিতে হয়েছে। “দিরাই শাল্লা নাসিরনগরে কারা হামলা করল? তারা কারা? কেন এসব হামলায় সরকারি দলের লোকের নাম আসে? শাল্লার ঘটনায় দেড় হাজার লোককে কেন আসামি করা হলো? এতে প্রকৃত অপরাধীরা তো পার পেয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে। যতক্ষণ দেশকে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত করা না যাবে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চালাতে হবে।” বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা বলেন, “আজ যাদের হাতে রাষ্ট্র তাদের আশ্রয়ে এসব ঘটনা ঘটছে। রাজনীতির সাথে সাম্প্রদায়িকতা মিশলে এমন ঘটনা ঘটে। যারা রাষ্ট্র চালাবেন তাদের জাতীয় চার মূলনীতির প্রতি আস্থা থাকতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, সারাদেশে একটি আন্দোলনই করা উচিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা। প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরু এসব শব্দ ব্যবহারের জন্য নয়। কবি সাংবাদিক ওমর কায়সার বলেন, সমাজ একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের দখলে।

সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সোহেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী নূরজাহান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা খেলাঘর সংগঠক অমল কান্তি নাথ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. বেণু কুমার দে, কবি আশীষ সেন,উদীচী চট্টগ্রামের সংগঠক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তা, জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, সাংবাদিক আহমেদ মুনির প্রমুখ।

চবি’র সহযোগী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক রাসেল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রামের আহ্বায়ক শাহেদ মুরাদ সাকু, সারওয়ার আলম মনি। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক আলীউর রহমান, সাংবাদিক প্রীতম দাশ, আবৃত্তি শিল্পী ও সাংবাদিক অনুপম শীল, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি এ্যানি সেন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা মাহমুদুল করিম, মহসীন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মায়মুন উদ্দিন মামুন। উপস্থিত ছিলেন ন্যাপ নেতা মিঠুল দাশগুপ্ত, খেলাঘর সংগঠক মোরশেদুল আলম চৌধুরী, ছড়াকার গোফরান উদ্দিন টিটু, সাংস্কৃতিক সংগঠক সুনীল ধর, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান, বোধন এর সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল দাশ প্রিন্স, সাজ্জাদ  হোসেন জাফর, রাজীব কান্তি নাথ, যুবলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন, শিবু প্রসাদ চৌধুরী ও আমিনুল ইসলাম আজাদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রায়হান উদ্দিন প্রমুখ।