সুপ্রভাত ডেস্ক »
চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তার জন্য নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম হঠাৎ করেই স্থগিত করা হয়েছে। অর্থসংকট ও সম্মানী ভাতা পরিশোধ করতে না পারার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
হঠাৎ করে স্বেচ্ছাসেবী এই শিক্ষার্থীরা সরে যাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুনরায় যানজট বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আর দায়িত্ব পালন করছেন না এই প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীরা। কার্যক্রমটি পুনরায় চালুর দাবিতে ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তারা।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের তীব্র জনবল সংকট দেখা দিলে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে এগিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্রাফিক সহযোগী বা ‘ট্যাগ’ সদস্য হিসেবে মাঠে নামানো হয়।
পরবর্তী সময়ে তারা ট্রাফিক কনস্টেবল, সার্জেন্ট ও পরিদর্শকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৭টি পয়েন্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। খণ্ডকালীন এই কাজের বিনিময়ে তাদের একটি সম্মানী বা ভাতা দেওয়া হতো, যা তাদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনেও সহায়ক ছিল।
সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করানো হলেও তাদের নিয়মিত সম্মানী, ভাতা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য আর্থিক ব্যয় মেটানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত তহবিল বা অর্থসংকটের কারণে সিএমপি এই সম্মানী দেওয়া অব্যাহত রাখতে পারছে না। এ কারণেই আপাতত স্বেচ্ছাসেবক ট্রাফিক সদস্যদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এখন সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের একটা ভবিষ্যৎ রয়েছে, তাদের এটা কোনো ক্যারিয়ার নয়। তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও কলেজে পড়াশোনা করে এখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছে, এটা তো তাদের চাকরি নয়— তাদেরও একটা জীবন রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে এখানে এসে কথা বলেছি। তাদের যেসব ফাইন্যানশিয়াল ব্যাপার ছিল, সেগুলোর সব কিছু ক্লিয়ার করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এদিকে, কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সিএমপি কমিশনার ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো লিখিত আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া আটটি হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে তারা আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মতো জনসমক্ষে কাজ করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের এই কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালুর জোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।



















































