নিজস্ব প্রতিবেদক »
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচনে সভাপতি পদে ঋণ খেলাপির অভিযোগে বাতিল হওয়া প্রার্থী আমজাদ হোসেন চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রমও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই দিন বিএসবিআরএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে হাইকোর্টের আদেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার কারণে মঙ্গলবারই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাইজিং স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী সভাপতি পদে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত সোমবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর মঙ্গলবার নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড নির্বাচন স্থগিত করে।
পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং আগামী ৮ জুন বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাব্বী বলেন, “হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগ স্থগিত করেছেন। আগামী ৮ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে।”
আদালত সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থিতা ফিরে পেতে আমজাদ হোসেন চৌধুরী রিট আবেদনে ঋণ খেলাপির তথ্য, ২৫ মে সভাপতি পদে একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা এবং সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। শুনানিকালে তথ্য গোপনের বিষয়টি আপিল বিভাগের নজরে এলে আদালত এ বিষয়ে জানতে চান। তবে আমজাদের পক্ষের আইনজীবীরা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ঋণ খেলাপির অভিযোগে আমজাদের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। তিনি নির্বাচন আপিল বোর্ডে আপিল করলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে ১০ মে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরী লিখিতভাবে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় আপিল বোর্ড তার আবেদন নাকচ করে। এরপর তিনি ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
বিএসবিআরএ সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ অক্টোবর সংগঠনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ১১টি পদের বিপরীতে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও আমজাদ হোসেনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ১৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন বোর্ড ‘স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারার’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করে। ফলে নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরবর্তীতে সংগঠনের সংঘবিধি লঙ্ঘন করে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর আমজাদ হোসেন সভাপতির পদ দখল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে অপসারণ করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সচিব আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলামকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। একই সঙ্গে ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসক ১ মার্চ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও নির্বাচন আপিল বোর্ড গঠন করেন এবং ২ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৯ এপ্রিল প্রাথমিক ও ১৬ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয় এবং ২৩ এপ্রিল জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ এপ্রিল যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আপিল শুনানি শেষে ২২ মে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৫ মে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হলে সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী থাকায় মোহাম্মদ মহসিনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

















































