মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
শৈল-সৈকত ও দেশগ্রাম

২২ ট্রান্সফর্মার চুরির মামলা না হওয়ায় ওসিকে শোকজ

মতলব উত্তর প্রতিনিধি >>

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার চুরির হিড়িক পড়লেও চুরির ঘটনায় মামলা রুজু না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। গত দুই মাসে ২৫টি ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২২টি পৃথক ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে মামলা করার আবেদন করা হলেও কোনো মামলা রুজু করেননি মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।

---------

বিষয়টি নজরে আসার পর ওসিকে সরাসরি আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পত্রিকায় প্রকাশিত ‘মতলব উত্তরে ট্রান্সফর্মার চুরির হিড়িক’ শীর্ষক সংবাদ আমলে নিয়ে চুরি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এবং মতলব উত্তর থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন মতলব উত্তর থানার আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ।

আদালতের নির্দেশের পর চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উঠে আসে, মতলব উত্তর থানা এলাকায় সংঘটিত ট্রান্সফর্মার চুরির প্রতিটি ঘটনায় থানার ওসি বরাবর মামলা দায়েরের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের আদেশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত ২২টি পৃথক চুরির ঘটনায় কোনো মামলা রুজু করা হয়নি।

এ ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে আদালত উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ধর্তব্য অপরাধ। এসব ঘটনায় মামলা রুজু করে চুরি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

কিন্তু একের পর এক ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় মামলা রুজু না করা এবং চুরি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মতলব উত্তর থানার ওসিকে শোকজ করেছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ।

আদালতের আদেশে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ওসিকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হয়ে চুরি প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয়তার কারণে তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ আদেশ দেওয়া হবে না—এ মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একের পর এক ট্রান্সফর্মার চুরি হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় মামলা না হওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।