বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : শোকই হোক শক্তি

ড. মো. মোরশেদুল আলম»

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহাকালের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, সেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বুকে প্রথম পেরেক ঠুকে দেয়া হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে। যিনি বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্রষ্টা তাঁকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। রেডিওতে মেজর ডালিমের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, আমি মেজর ডালিম বলছিÑশেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ হারায় তার জাতির পিতা, প্রথম বেসামরিক প্রশাসককে। দেশ হাঁটতে শুরু করে সংবিধানে উল্লেখিত প্রগতিশীল রীতিনীতির উল্টো পথে। পাকিস্তানি ঘাতকরা সহস্র ষড়যন্ত্র করে, বিচারের নামে প্রহসন করেও যাকে হত্যা করতে পারেনি, সেই বঙ্গবন্ধুকেই স্বাধীন বাংলাদেশে হত্যা করা হয়েছে। সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা এবং সহিংস চরমপন্থি শক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যোগসাজশ ক্রমবর্ধমান নিয়মে পরিণত হয়। শুধু বঙ্গবন্ধুকেই সেদিন সপরিবারে হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয় কর্নেল জামিলকে। হত্যা করা হয়েছিল ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে অবস্থানকারী আরও বেশ কয়েকজনকে। নিষ্পাপ শিশু রাসেল, বেগম মুজিব, শেখ নাসের, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও তাঁদের নববধূ সুলতানা কামাল ও রোজী কামালÑকাউকেই রেহাই দেয়নি ঘাতকরা। একই সময়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল শেখ ফজলুল হক মনি এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে। যত বড় অপরাধ করেছিল জুডাস, ব্রুটাস, এজিদ, মীরজাফর; এদের সম্মিলিত অপরাধের চেয়েও বেশি অপরাধ করেছিল ১৫ আগস্টের খুনিরা। সাঁজোয়া কোরের দুটি ব্যাটালিয়ান এবং ১৫০০ সৈন্যের সহায়তায় মুষ্টিমেয় কিছু জুনিয়র অফিসার (২০ থেকে ২৫ জন মেজর এবং ক্যাপ্টেন) দ্বারা সংঘটিত প্রাক্-ভোর এই হত্যাকাণ্ড জাতিকে বহু বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়। এই খুনীদের শিগগিরই উৎখাত করে পাল্টা অভ্যুত্থান এবং লাগাতার রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড দেশকে পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত করে। নৃশংসভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একটা ভরসার জায়গা ছিল রক্ষীবাহিনীকে ঘিরে। কিন্তু বিদ্রোহীদের অনুগতরা গিয়ে রক্ষীবাহিনীর সৈন্যদের অবরোধ করে ফেলেছিল। তখনও ভাবা হয়েছিল সিনিয়র নেতারা সবাই তীব্র প্রতিবাদ করবেন, কিন্তু ঘটনা ঘটল তার উল্টো। জাতীয় চার নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং তোফায়েল আহমেদ ও আবদুর রাজ্জাক ছাড়া ভরসা করার মতো প্রায় অনেকেই খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গেই ভিন্ন পথচলা শুরু হয় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের। মুখ থুবড়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রশাসন থেকে রাজনীতি সর্বত্র। সব জায়গায় জেকে বসে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের ভূত। বছর না ঘুরতে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, যাঁরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিশ^াস করতেনÑতাঁদের জন্য শুরু হয় অন্ধকার পর্যায়। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই একটানা চেষ্টা চলে বঙ্গবন্ধুকে ভুলিয়ে দেওয়ার। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা হয়। আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরে চালানো হয় ধারাবাহিক নির্যাতন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী যে শক্তিটি স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করে পাকিস্তানি মূল্যবোধ সম্পৃক্ত একটি দেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল, বঙ্গবন্ধুহত্যা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশবিশেষ। ফলে ১৫ আগস্টের পর পরই স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ওপর। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর। নির্বিচারে হত্যা-ধর্ষণ-সংখ্যালঘু নির্যাতন শুরু হয় চোখের পলকে। ভালোভাবে বুঝে ওঠার আগেই প্রশাসনের সবক্ষেত্রে রদবদল শুরু হয়। পাকিস্তানপন্থিরা শুরু করে স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের ওপর নির্মম অত্যাচার। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কেবল বঙ্গবন্ধুর শরীরকেই বুলেটবিদ্ধ করা হয়নি, আঘাত করা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর। তাদের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করাই শুধু ছিল না, ছিল মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশকেই ধ্বংস করা। আর তাই ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতায় একই বছরের ৩ নভেম্বর কারাভ্যন্তরে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতাকেও। এর ফলে মৌলবাদ তথা পাকিস্তানবাদের উত্থান ঘটে। রাতারাতি বাংলাদেশ বেতার হয়ে যায় রেডিও বাংলাদেশ, জয় বাংলা হয়ে যায় পাকিস্তান জিন্দাবাদের অনুকরণে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। বঙ্গবন্ধু হত্যা নিছক একজন ব্যক্তি হত্যা নয়, ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির আত্মাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। এরূপ নৃশংস হত্যাকাণ্ড জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে জড়িত নেতাদের ব্যক্তিগত অভিযোগ ছিল, সামরিক হস্তক্ষেপের প্ররোচনাই তাদের এই কাজে উৎসাহিত করে। তারা বিশ^াস করেছিল, বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে পারলে তারা মুজিববাদীদের ধ্বংস করে ক্ষমতা ভোগ করতে পারবে। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানি সফরে থাকার কারণে প্রাণে বেঁচে যান। তাঁদের বাংলাদেশে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছিল। জনগণের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আমৃত্যু যে অটুট বন্ধন ছিল, সেটিও ধ্বংস করতে চেয়েছিল ঘাতকরা; কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সাময়িক সফল হলেও চিরস্থায়ী হয়নি।
বঙ্গবন্ধু খুনীদের রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই কালো অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক আইনের অধীনে দেশে বিতর্কিত দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সংসদেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশসহ চার বছরের সামরিক আইনের আওতায় সব অধ্যাদেশ, ঘোষণাকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনগত বৈধতা দেওয়া হয়। এই ধরনের আইনি সুরক্ষা দিয়েই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের পথ যেমন বন্ধ করা হয়েছিল, একইসঙ্গে তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর মূল দুই খুনী মেজর ফারুক ও রশিদকে লিবিয়ায় বিলাসবহুল জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনজনের একটা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের টিম বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাঁদের একজন ব্র্যায়ন ব্যারন। যাঁদের তিনদিন শেরাটনে আটকে রেখে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। দেশে ফিরে ব্যারন লিখেছিলেন, ‘শেখ মুজিব সরকারিভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং জনসাধারণের হৃদয়ে উচ্চতম আসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। এটা যখন ঘটবে, তখন নিঃসন্দেহে তাঁর বুলেট-বিক্ষত বাসগৃহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্মারকচিহ্ন এবং তাঁর কবরস্থান পুণ্যতীর্থে পরিণত হবে।’
পরবর্তীসময়ে ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের আওতায় আনতে ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। জাতির পিতার ঘাতকদের বিচারের পথ সুগম হয়। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর আবাসিক একান্ত সহকারি এএফএম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। ৩ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা সিআইডির নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং এ মামলার তদন্ত কাজ শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিচারকার্যের জন্য মামলাটি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে কাজি গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে আবারও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার থমকে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে, মামলাটি আবার গতি পায়। উচ্চ আদালতে ২৯ দিন শুনানির পর ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেন। রায়ে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন আহমদ, বজলুল হুদা এবং ল্যান্সার এ কে এম মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল আব্দুল মাজেদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর করা হয়।বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের ৫ জন এখনও বিদেশে পলাতক। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাশেদ চৌধুরী এবং রিসালদার মোসলেমউদ্দিন আছে যুক্তরাষ্ট্রে, নূর চৌধুরী আছে কানাডায়, খন্দকার আব্দুর রশিদ লিবিয়া অথবা কেনিয়ায়, শরিফুল হক ডালিম পাকিস্তানে।
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্ন, সোনার বাংলাদেশ গঠনের দিকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাঙালি জাতি। ১৫ আগস্টের সেই দোসররা আজও সক্রিয়। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার ব্রত নিয়ে অগ্রসরমান তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ২১ বার চেষ্টা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মদদে ২১ আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ডও ঘটানো হয়েছে। তিনি তবুও এগিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমগ্র বিশে^ প্রশংসিত। তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্ব এবং নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক সফলতার পালক। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদেরও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে চলেছে। এ প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আর সেই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে চলে যাব।’আমাদের নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছে দৃঢ় প্রত্যয়ে।
লেখক: শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়