২১ বছর পর স্থায়ী ভবন পেল বারইয়ারহাট পৌরসভা

0
92

কাজ শেষ হওয়ার ৪ বছর পর নতুন ভবনের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি, মিরসরাই :
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্থায়ী ভবনে উঠলেন বারইয়ারহাট পৌরসভা। ২৪ হাজার টাকা ভাড়ায় দীর্ঘ ২১ বছর ভাড়া ভবনে ছিল বারইয়ারহাট পৌর ভবনের কার্যক্রম। নানামুখী জটিলতা কাটিয়ে ২৪ মার্চ নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
বারইয়ারহাট পৌর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে বারইয়ারহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালের ৯ আগস্ট ভবনের জন্য ১ একর ২০ শতক খাস জমি বন্দোবস্তি চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেন তৎকালিন পৌর মেয়র মরহুম তাহের আহম্মদ। মেয়রের চিঠিতে সাড়া দিয়ে ২০১২ সালের ৯ মে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে জায়গা নির্ধারণের নিদের্শ দেন মন্ত্রণালয়।
২০১২ সালের ২৬ জুলাই জেলা প্রশাসক সরেজমিনে গিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভা কার্যালয়ের জন্য জায়গা সার্ভের নির্দেশ দেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে। মিরসরাই উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে পূর্ব হিঙ্গুলী মৌজায় ৫০ শতক খাস জমি বারইয়ারহাট পৌর ভবনের জন্য নির্ধারণ করে। বিভিন্ন প্রকার দাপ্তরিক কাজ শেষে বারইয়ারহাট পৌরসভার জমির ফাইলটি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পৌছে। ২০১৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন পায় বিষয়টি। পরে পৌর কর্তৃপক্ষকে ৫০ শতক জমির জন্য ১৮ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নিদের্শ দেন জেলা প্রশাসক। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ওই অর্থ জমা দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি নেন পৌর মেয়র তাহের আহম্মদ। জমি কেনা শেষ হলে শুরু হয় ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া।
২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ভবনের জন্য আবেদন করে বারইয়ারহাট পৌর মেয়র। ২০১৪ সালের ১৩ই মার্চ তা অনুমোদন পায়। ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল ২ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার ৬শত ৪৯ টাকা বরাদ্দসহ ভবনের নির্মাণের অনুমোদন পায় বারইয়ারহাট পৌর কর্তৃপক্ষ। ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ি কাজ পান মের্সাস সেলিম এন্ড ব্রাদাস। যথা রীতি কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও ভবনটি ব্যবহার করতে পারছিল না পৌর কর্তৃপক্ষ। জায়গাটি পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অফ বাংলাদেশ এর (পিজিসিবি) বলে দাবি করে তারা গ্রীড নিমার্ণ করে। আর এতে করে বারইয়ারহাট পৌর ভবনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু অবশেষ নতুন মেয়র রেজাউল করিম দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ভবনটিতে উঠে পৌর কার্যক্রম শুরু করে।
বারইয়ারহাট বাজারের নটবর দত্ত, জসিম উদ্দিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন, অবশেষে আমরা নতুন ভবন পেলাম। স্বাধীনতার মাসে এটি আমাদের বারইয়ারহাট পৌর ব্যবসায়ীদের জন্য আরো একটি স্বাধীনতা। নতুন মেয়র রেজাউল করিমের সৎ ইচ্ছা ও আমাদের অভিবাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।
বারইয়ারহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিঞ্চু প্রসাদ দত্ত রতন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরিফ উদ্দিন মাসুদ জানান, নতুন ভবনে উঠার ফলে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া বাবদ খরচ কমবে। এছাড়া পৌরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হলো।
বারইয়ারহাট পৌর মেয়র রেজাউল করিম জানান, নতুন ভবন পেয়ে বারইয়ারহাট পৌরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি অবশেষ পূরণ হলো। আমি মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।