মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
শৈল-সৈকত ও দেশগ্রাম

সাঙ্গু নদীতে বালু লুট থামছেই না, রাত নামলেই নামে ড্রেজার

সাঙ্গু নদীতে বালু লুট থামছেই না, রাত নামলেই নামে ড্রেজার

আনোয়ারা প্রতিনিধি >>

---------

দিনের আলোয় নদী শান্ত। কিন্তু রাত নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। অন্ধকারের সুযোগে সাঙ্গু নদীর বুকে নামে ড্রেজার, নদীর তলদেশ থেকে তোলা হয় বালু। পরে বাল্কহেডে করে তীরে এনে তা মজুদ করা হয়। এরপর ট্রাকে করে চলে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে সাঙ্গু নদীর বালু উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সাঙ্গু নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদের অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি থাকলেও তা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। অভিযান মূলত দিনের বেলায় হওয়ায় রাতের আঁধারে নির্বিঘ্নে চলছে বালু উত্তোলন।

নদীতীরবর্তী দক্ষিণ ইছাখালী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শওকত বলেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রায় প্রতিরাতেই নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তোলার শব্দ শোনা যায়। বাল্কহেড থেকে তীরে বালু নামানো, তা স্তূপ করে রাখা এবং পরে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের কাছে অনেকটা নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাইননার দিঘি, দক্ষিণ ইছাখালী, গোদারপাড়, ভরাচর ও কানু মাঝির হাটসহ সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় বালু মজুদের চিত্র দেখা গেছে। কোথাও বড় বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে বালু, আবার কোথাও ট্রাকে করে তা পরিবহনের দৃশ্যও চোখে পড়ে। তবে দিনের বেলায় অনেক জায়গাই তুলনামূলক নির্জন দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান সাধারণত দিনের বেলায় পরিচালিত হয়। কিন্তু বালু উত্তোলনের মূল কার্যক্রম চলে গভীর রাতে। ফলে অভিযানের খবর পেয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেডগুলো দ্রুত সরে যায়। কখনো বালু জব্দ কিংবা জরিমানা করা হলেও অভিযানের পর আবারও শুরু হয় একই কার্যক্রম।

গোদারপাড় এলাকার এক ট্রাকচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই এলাকা থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক বালু বের হয়।

দক্ষিণ ইছাখালী এলাকায় বালু মজুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহেদুল ইসলাম নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “আমি সাতকানিয়া থেকে বালু কিনে নদীপথে এখানে এনে মজুদ করি। পরে সেখান থেকে বিক্রি করি।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি এসব বালু অন্য এলাকা থেকে আনা হয়, তাহলে তার বৈধ উৎস ও অনুমোদিত মজুদের কাগজপত্র কোথায়? নদীতীরে বালু মজুদের বিষয়টি নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও নদী বিশেষজ্ঞ ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, নদী থেকে বালু অপসারণের ফলে নদীভাঙন ত্বরান্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে। নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও এসব অবৈধ বালুমহাল এবং বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।