লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দৃঢ় অবস্থানে করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়

0
199
  • ১০ বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন
  • উপজেলায় সেরা বিদ্যালয় নির্বাচিত
  • আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা ফুটবল প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও জেলায় রানার-আপ

রাজু কুমার দে, মিরসরাই :

কখনো কখনো ব্যক্তিই পাল্টে দিতে পারেন পুরো দেশ, জাতি, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানকে। তেমনি একজন ব্যক্তি মিরসরাই উপজেলার করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি শাখাওয়াত উল্ল্যা রিপন। মিরসরাইয়ের সাবেক মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সহযোগিতা নিয়ে তিনি করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়কে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পাল্টে গেছে বিদ্যালয়ে পরিবেশ। বিগত ১০ বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর চলছিল ধুকে ধুকে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার পাশের হার ছিল ৮৬%। কিন্তু ২০১০ সালে শাখাওয়াত উল্ল্যা রিপন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের দায়িত্ব নেয়ার পর পাশের হার দাঁড়ায় ৯২ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ২০ জন জিপিএ-৫সহ পাশের হার ছিল ৯৩.৫০ শতাংশ। ২০১৮ সালে উপজেলায় সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হন করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়। ২০১৯ সালে আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা ফুটবল প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জেলা পর্যায়ে রার্নাস-আপ নির্বাচিত হন। একই বছর স্কাউট, গার্লস গাইডের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। বিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, শাখাওয়াত উল্ল্যা রিপন সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫ হাজার টাকায় একটি কম্পিউটার ক্রয় করে দেন। ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে ২লাখ টাকা খরচ করে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করেন। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাড়ে তিন লাখ ও বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ করে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। তার নিজস্ব উদ্যোগে নির্মাণ হয় স্থায়ী মঞ্চ ও মুজিব কর্ণার। বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদান পর্যবেক্ষনের জন্য ২৪টি সিসি টিভি ক্যামরা স্থাপন করেন। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। ১৫ লাখ টাকা খরচ করে দ্বিতল একটি ভবন নির্মাণ করেন। প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে ছাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক কমনরুম ও বাথরুম নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ২ লাখ টাকা খরচ করে শিক্ষক মিলনায়তনে আসবাবপত্র নির্মাণ, প্রধান শিক্ষকের রুমে আইপিএস ও টাইলস স্থাপন,আধুনিক গ্রন্থাগার নির্মাণ, শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, বিধি মোতাবেক ১৪ শিক্ষক কর্মচারি নিয়োগ, প্রতিবছর স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে পহেলা বৈশাখ ও পান্তা ইলিশের আয়োজন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন ভূইয়া বলেন, বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব নেয়ার পর পাল্টে যেতে থাকে বিদ্যালয়ে সার্বিক চিত্র। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সহায়তায় বিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কাজ করছেন। শিক্ষকদের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরি করায় বেড়েছে পাশের হার। সভাপতি শাখাওয়াত উল্ল্যা রিপন বলেন, আমার অভিবাবক সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির সহযোগিতায় আমি বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। আমাকে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকলে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির খান বলেন, ২০১৮ সালে করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলায় সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে। পাশের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে দ্যুতি ছড়াচ্ছে বিদ্যালয়টি।