লবণ মিলের কোটি টাকার জায়গা অবৈধ দখলে

0
165

স্থাপনা নির্মাণ করে ৩০ বছর আয়

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় বেক্সিমকোর মালিকানাধীন লবণ মিলের প্রায় কোটি টাকার জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। বিগত ৩০ বছর ধরে বেক্সিমকোর লবণ মিলের জমিতে অবৈধভাবে  দোকান তৈরি করে ভাড়া বাবদ প্রায় ২ কোটিরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জায়গার কথিত পাহারাদারের পরিবার। জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের দিকে বেক্সিমকো কোম্পানি তৎকালীন আমলের ২৬ লাখ দিয়ে মগনামার মৌজায় মগনামা লঞ্চঘাট বাস স্টেশনের সাথে লাগোয়া ৪০ শতক জমি ক্রয় করে। এরপর উক্ত জমিতে একটি লবণ মিল স্থাপন করে। কিন্তু ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে লবণ মিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর  লবণ মিলটি আর সংস্কার করে চালু করেনি। মিলের যন্ত্রপাতি ও মেশিন নষ্ট হয়ে যায়।জানা যায়, প্রায় কোটি মূল্যমানের লবণ মিলের জমিতে বিগত ৩০ বছর ধরে অবৈধভাবে দোকান তৈরি করে ভাড়া দিয়ে প্রায় কোটি হাতিয়ে নিয়েছে মগনামা লঞ্চঘাট এলাকার মৃত আজিউর রহমানের পরিবার। তবে আজিউর রহমানের পরিবারের দাবি, বেক্সিমকো কোম্পানি তাদেরকে উক্ত জায়গা দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই তারা  বেক্সিমকোর জায়গায় দোকান তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। বেক্সিমকো কোম্পানি লিখিতভাবে দেখভাল করার জন্য দায়িত্বে দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।স্থানীয় একটি সূত্র জানায়,  বেক্সিমকোর কথিত পাহারাদারের নাম ভাঙিয়ে মূলত আজিউর রহমানের দুই পুত্র ইব্রাহিম ও ফজল করিম জায়গা দখলের জন্য ভুয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করার তৎপরতা চালাচ্ছেন।জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট বাস স্টেশনের সাথে লাগোয়া বে´িমকোর লবণ মিলের সামনের অংশে প্রায় ৬টি দোকান তৈরি করে গত ৩০ বছর ধরে ভাড়া দিয়ে প্রায় দুই কোটি আত্মসাৎ করেছেন মরহুম আজিউর রহমানের পরিবার।

বিগত ৫/৬ বছর পূর্বে আজিউর রহমান মারা যান। মারা যাওয়ার পূর্বে তিনি এবং মারা পরবর্তী সময় থেকে তার পুত্র ফজল করিম দোকানের ভাড়ার টাকা উত্তোলন করছেন। পাহারাদার মৃত আজিউর রহমানের ছেলে মো. ইব্রাহিম জানান, তারা বেক্সিমকোর কাছ থেকে দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন। দোকান ভাড়ার টাকা থেকে কক্সবাজারে দায়িত্বরত বে´িকোর এক কর্মকর্তাকে নিয়মিত টাকা দেওয়া হয়। তবে ওই কর্মকর্তার নাম ও পদবি কি জানতে চাইলে ইব্রাহিম জানাতে পারেনি।বর্তমানে কুতুবদিয়ার বাসিন্দা মো. ওমর আলী সওদাগরের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা সালামি নিয়ে বেক্সিমকোর জায়গায় দোকান তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন ফজল করিম। একইভাবে মগনামা পশ্চিমকূল গ্রামের মো. আনসারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, কাঞ্চনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা সালামি, গিয়াসুদ্দিনের কাছ  থেকে ২০ হাজার টাকা সালামি নিয়ে দোকান ভাড়া দিয়েছেন। এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে ভাড়াও উত্তোলন করছেন ফজল করিম। এভাবে বছরের পর বছর অবৈধভাবে দোকান ভাড়া আদায় অব্যাহত রেখেছেন ফজল করিম। এ বিষয়ে ফজল করিমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে যোগাগোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মাসনিকভাবে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে তার পরিবারের লোকজন কথা বলতে দেয়নি।

তাই তার বক্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।অপরদিকে বেক্সিমকোর দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তার কার্যালয় পেকুয়ায় না থাকায় এ বিষয়ে কারো বক্তব্যও  নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় লোকজন মিলের জায়গায় দোকান তৈরি করে বছরের পর বছর ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাৎকারী আজিউর রহমানের ছেলে ফজল করিমসহ জড়িত অন্যান্যদের কবল থেকে জমি উদ্ধারপূর্বক পুনরায় মিলটি চালু করার জন্য মালিকপক্ষের  হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।