নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক »
মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় দিন স্বাগতিক বোলাররা ব্যর্থ হলেও তৃতীয় দিন সাফল্য পেয়েছেন। ৪১৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করা পাকিস্তান দল টাইগার তাবুতে হতাশা এনে দেয়।
কিন্তু রোববার মিরাজ-তাসকিন-তাইজুলরা দুর্দান্ত বোলিং করে বাকি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হন। শনিবার বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল পাকিস্তান। মাঝখানে ছন্দপতন ঘটলেও সালমান-রিজওয়ানের জুটিতে আবারও ম্যাচে ফেরে সফরকারীরা। কিন্তু টাইগার স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ফাইফারে এগিয়ে রইলো স্বাগতিকরাই। তাসকিন ও তাইজুল নেন ২টি করে উইকেট। পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিড পেলেন নাজমুল হাসান শান্তরা।
বৃষ্টিবিঘ্নিত শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে ১.৫ ওভার খেলেছে বাংলাদেশ। কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে ৭ রান। ফলে ৩৪ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করেছিল পাকিস্তান। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ২৩৪ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। দুই অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইস ৮৫ ও আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। তৃতীয় দিনের পঞ্চম ওভারে সেঞ্চুরি তুলেন নেন আজান। এজন্য ১৫৩ বল খেলেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি আজান। বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে নাজমুুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। ১৪টি চারে ১৬৫ বলে ১০৩ রান করেন আজান। দ্বিতীয় উইকেটে ফজলের সাথে ১৯৮ বলে ১০৪ রান যোগ করেন আজান। দলীয় ২১০ রানে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে আজান ফেরার পর দ্রুত ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ২৩০ রানে পঞ্চম উইকেট পতন হয় তাদের। পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে ৯ রানে তাসকিন এবং সৌদ শাকিলকে শূন্য ও ফজলকে ৬০ রানে বিদায় দেন মিরাজ। চাপে পড়া পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরাতে জুটি বাঁধেন সালমান আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।
এসময় সালমানকে খালি হাতে ফেরাতে পারতেন তাসকিন। উইকেটের পেছনে ক্যাচও দিয়েছিলেন সালমান। কিন্তু তাসকিনের ডেলিভারি নো-বল হওয়ায় এ যাত্রায় বেঁচে যান সালমান। জীবন পেয়ে রিজওয়ানের সাথে ১৫৭ বলে ১১৯ রানের জুটি গড়েন সালমান।
এ সময় দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন। চা-বিরতির ঠিক আগ মুর্হূতে থামেন রিজওয়ান। বাংলাদেশ স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে মাহমুদুল হাসান জয়কে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ৮টি চারে ৫৯ রান করেন তিনি। রিজওয়ানের আউটের পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এসময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান। প্রায় দুই ঘন্টা পর খেলা শুরু হলে বাংলাদেশ বোলারদের তোপের মুখে ৩৭ রানে শেষ ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এতে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। সালমান ৫৯, শাহিন শাহ আফ্রিদি ১৩ রান করেন। ৩৮ ওভারে ১০২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। ৫৭ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তমবারের মত ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি।
এছাড়া তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে এবং নাহিদ ১ উইকেট নেন। পুনরায় শুরু হলে দিনের শেষভাগে ১১ বল খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এসময় বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে তারা। আলো স্বল্পতায় বিকেল সাড়ে ৫টায় দিনের খেলার ইতি ঘটে। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত খেলা হবার কথা ছিল। আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে আবহওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।



















































