সুপ্রভাত ডেস্ক »
লায়ন্স জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশ-এর ২৯তম বার্ষিক জেলা কনভেনশন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা গভর্নর লায়ন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ অপু বলেছেন, ক্ষুধার্ত মুখে আহারের হাসি, অন্ধ চোখে আলোর স্বপ্ন, হতাশ জীবনে আশার প্রদীপ জ্বালানোর প্রত্যয়ে—বছরব্যাপী নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে লায়ন্স জেলা। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি মানুষের জন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে বড় ইবাদত আর কিছু হতে পারে না।
রোববার (১০ মে) লায়ন্স কমপ্লেক্সের হালিমা রোকেয়া মেমোরিয়াল হলে প্রেস কনফারেন্স কমিটির চেয়ারম্যান লায়ন ইমতিয়াজ ইসলামের সভাপতিত্বে ও সচিব লায়ন হাসান আকবরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন, প্রথম ভাইস গভর্নর লায়ন কামরুজ্জামান লিটন, দ্বিতীয় ভাইস গভর্নর লায়ন আবু বকর,
কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন আবু মোরশেদ, কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন গাজী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কনভেনশন কমিটির চেয়ারম্যান লায়ন শাহেদুল ইসলাম, সেক্রেটারি লায়ন সাব্বির আহমেদ।
আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রেস কনফারেন্স সাব কমিটির মেম্বার লায়ন হাসিনা খান, লায়ন ক্যাপ্টেন এস আই ভুঁইয়া, লায়ন জাহাঙ্গীর মিয়া, লায়ন এস. এম. আবদুল আজিজ, লায়ন আমজাদ হোসেন চৌধুরী, লায়ন পারভীন মাহমুদ, লায়ন গোলাম মহিউদ্দিন বাবুল,লায়ন তারেক কামাল, লায়ন সিলভেস্টার বার্বাডেট, লায়ন হুমায়ুন কবির, লায়ন কাশেম শাহ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে জেলা গভর্নর আরো বলেন, মানুষ মানুষের জন্য- এই চিরন্তন বিশ্বাসকে হৃদয়ে ধারণ করেই মানবতার মুখে একটু হাসি ফোটানোর অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলে লায়ন্স ক্লাব। সমাজের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়ের চোখের জল মুছে দেওয়া, অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালানো—এই মানবিক দায়বদ্ধতাকেই আমরা আমাদের শক্তি ও প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছি।
আমি এ বছর কল দিয়েছি ‘একতাতে সমৃদ্ধি’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি মানবকল্যাণ, তরুণদের নৈতিক উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করি। আমাদের নিয়মিত কর্মসূচি চিকিৎসা ক্যাম্প, রক্তদান, খাদ্য বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খৎনা ক্যাম্প, ডায়াবেটিস সচেতনতা, নতুন কাপড় বিতরণ, জাতীয় দিবস সমূহ উদযাপনসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে একটি স্বতন্ত্র আই ইনস্টিটিউট, ওয়ান ক্লাব ওয়ান চাইল্ড প্রকল্প, দরিদ্র পরিবারের সন্তান যারা অর্থাভাবে তাদের উচ্চশিক্ষা লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য লায়ন্স সদস্যদের আর্থিক অনুদানে লায়ন্স স্কলারশিপ ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ বছর লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে লায়ন্স জেলার বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলাতেই একাধিক আই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
এসব আই ক্যাম্প থেকে ১২ হাজার ৮৯১ জনেরও বেশি গরীব রোগীর বিনামূল্যে ছানী অপারেশনের জন্য ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া জেলা ও ক্লাবসমূহের উদ্যোগে দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষণ ক্যাম্প আয়োজন, প্রযুক্তিগত এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে দৃষ্টিহীনদের সহায়তাকরণ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
ক্যাম্পের মাধ্যমে চক্ষু অপারেশন ও চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এ ক্যাম্পে চক্ষু পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় লায়ন্সদের স্থাপিত হাসপাতালগুলি আধুনিকীকরণ ও নতুন হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। যতদূর সম্ভব বাংলাদেশ থেকে অন্ধত্ব নিবারণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
লায়ন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ অপু বলেন, আমরা লায়ন ও লিওরা এ দেশের বিশাল জনসমুদ্রের ক্ষুদ্র একটি অংশমাত্র। আমাদের সামর্থ্য সীমিত, আমাদের প্রচেষ্টাও হয়তো সমুদ্রের বুকে একটি জোনাকির আলোর মতো ক্ষীণ। তবুও আমরা বিশ্বাস করি—অন্ধকার ভেদ করার শুরুটা একটি ছোট আলো দিয়েই হয়। মানবতার পথে আমাদের এই নিরলস প্রয়াস কোনো জাতীয় বা সামাজিক সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়; বরং এটি একটি দায়বদ্ধতার আহ্বান, একটি মানবিক দৃষ্টান্ত, একটি আলোকিত মডেল নির্মাণের চেষ্টা।
সমাজের দারিদ্র্য, বৈষম্য, অশিক্ষা ও অবহেলার বিরুদ্ধে একক কোনো সংগঠনের পক্ষে লড়াই করা সম্ভব নয়। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন দেশের মানুষ সমস্যাগুলো নিজেদের সমস্যা হিসেবে উপলব্ধি করবেন এবং সমাধানের পথে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসবেন। আর সেই জাগরণের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে গণমাধ্যম।
উল্লেখ্য, আগামীকাল ১১ মে সোমবার বার্ষিক জেলা কনভেনশন উপলক্ষে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টার থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। আগামী ১৪ ও ১৫ মে দুদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশন নগরীর চিটাগং ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে।



















































