ভরা মৌসুমেও উখিয়ার হাটবাজারে সবজিতে আগুন

0
151
  • নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ

  • প্রশাসনের নজরদারি দাবি

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া :

সবজির ভরা মৌসুমেও উখিয়ার হাটবাজারগুলোতে কমছে না সবজির দাম। পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দামও বাড়িয়ে নিতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার উখিয়ার বৃহত্তম দারোগা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সর্বনিম্ন কেজি প্রতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন রকমের তরিতরকারি। সর্বোচ্চ সবজি টমেটোর দাম হাঁকা হচ্ছে ১শ৫০ টাকা। বিক্রেতারা জানালেন, অসময়ের বৃষ্টি অধিকাংশ সবজি ক্ষেতে ভাল ফলন হয়নি। যে কারণে চাহিদার তুলনায় সবজি উৎপাদন হয়নি বিধায় অন্যান্য বছরের তুলনায় তরিতরকারির দাম বেড়েছে। বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ছালামত উল্লাহ, নুর আলম জানালেন, আগে শহরের খাতুনগঞ্জ, সাতকানিয়া, কেরানীহাট, আমিরাবাদ এলাকার বড় বড় আড়ৎ থেকে উখিয়ার ব্যবসায়ীরা সরাসরি সবজি সরবরাহ করতো। বর্তমানে তা আর হচ্ছে না। এসব আড়ৎগুলো এখন রোহিঙ্গা বাজারমুখী হওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারের চাইতে রোহিঙ্গা বাজারে প্রতিটি তরকারির বিপরীতে ৫/১০ টাকা কমে সবজি মিলছে। উখিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১শ টাকা দরে। এছাড়া পেপে ৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, সিম ১শ২০টাকা, আলু ৬০ টাকা, চিচিংগা ৭৫ টাকা,  বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৬৫ টাকা, গাজর ১শ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তরকারি ব্যবসায়ীরা জানান, হাটবাজারে সবজির দাম বাড়তির নেপথ্যে মাত্রাতিরিক্ত চাহিদা বেড়েছে বলে দাবি করেন। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গারা কুতুপালং বাজার ছাড়াও উখিয়ার বিভিন্ন হাটবাজারে এসে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে দেখা গেছে। এদিকে নিত্যপণ্যের দোকান গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ১শ টাকা দরে। তবে খুচরা দোকানে তার চাইতে আরো বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। মোটা চাল কেজি প্রতি ২/৩ টাকা ও চিকন চাল কেজি প্রতি ৫/৬ টাকা দরে বেড়েছে। দোকানগুলোতে পণ্য মূল্যের তালিকা থাকলেও দাম লেখা নেই। জানতে চাওয়া হলে বাবুল নামের এক ব্যবসায়ী জানালেন, কখনো বাড়ে কখনো কমে তাই দাম লেখা হয়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ হাটবাজারগুলোতে প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো গলাকাটা দাম আদায় করছে। মাছ, মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। এসব বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের পাশে থাকা দালাল চক্র তাদের ইচ্ছামতো দাম হাকছে আর আদায় করছে। মাঝে মধ্যে কাঁচা মাছ ওজনে ভারী করার জন্য পানি ছিটাচ্ছে। প্রশাসন নিত্যপণ্য ওজনের জন্য আধুনিক পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিলেও হাটবাজার গুলোতে তা মানা হচ্ছে না। মান্ধাতা আমলের দাড়িপাল্লা ব্যবহার করে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছু সংখ্যক খুচরা বিক্রেতা জানান, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করা হচ্ছে। সরকারিভাবে ইজারার পণ্য ও দামসম্বলিত তালিকা টাঙানোর কথা থাকলেও কেন টাঙানো হয়নি জানতে চাওয়া হলে উখিয়া বাজার ইজারাদার তহিদুল আলম তহিদ সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিমুল এহসান খান জানান, কাজের চাপ বেশি হওয়ার কারণে তাকে আপাতত হাটবাজার পরিদর্শন বা মনিটরিং করা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^স্ত করেন।