প্রকৌশলীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী, নিম্মমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে চলছে কাজ

0
91

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাউখালী :

নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে চলছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ। এমনই অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। সরেজমিন ঘুরে ও প্রকৌশলীর ঠিকাদারকে দেয়া এক নির্দেশে তারই প্রমাণ মিলেছে। কাউখালী উপজেলার কাউখালী ঘাগড়া সংযোগ সড়কের ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কাজ পায় রাঙামাটির প্রভাবশালী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসএস-এমএম ট্রেডার্স। কাজের শুরু থেকেই নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজের অভিযোগ করে আসছিলো স্থানীয়রা। এর আগেও নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছিলো উপজেলা প্রকৌশলী।

আবারও স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ  ৯ এপ্রিল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। ঠিকাদার কাজের সাইডে নি¤œমানের পাথর মজুদ করেছেন বলে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের আলোকে একইদিন উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারকে কাজের সাইড থেকে নি¤œমানের পাথর ৩ দিনের মধ্য অপসারণের জন্য নির্দেশ দেন। একই সাথে বিষয়টি অবহিত করেন নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, রাঙামাটিকেও। কিন্তু প্রভাবশালী ঠিকাদার প্রকৌশলীর নির্দেশকে অমান্য করে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে নির্মাণকাজ। নাম প্রকাশ না করা শর্তে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের একজন জানান, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রকৌশলীর নির্দেশ পাত্তাই দিতে চায় না ঠিকাদার। প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- ঘাগড়া কাউখালী সংযোগ সড়কের ঘাগড়া বাজার মুখ থেকে ২৬০০ মিটার (২.৬ কিলোমিটার) রাস্তায় বক্স কালভার্ট, সিলকোড, প্রয়োজনীয় জায়গায় কার্পেডিং, রাস্তা ভাঙ্গন রোধে বন্যা প্রতিরোধক ওপেন বক্স কালবার্ট (ভি কালবার্ট) নির্মাণের কার্যাদেশ পায় এসএস- এমএম  টেডার্স।

শনি ও রবিবার প্রকল্প এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- কাউখালী ঘাগড়া সংযোগ সড়কের জুনুমাছড়া এলাকায় রাস্তার এল ড্রেন ও ওপেন বক্সে কালভার্টের কাজ চলছে। এর মাঝে কাজ শেষ হয়েছে রাস্তার বক্স কালবার্ট। এল ড্রেনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কাজের সাইড থেকে সরিয়ে ফেলতে বলা নি¤œমানের পাথর (কংকর) ও ইট দিয়ে। নি¤œমানের পাথর সরিয়ে নিতে নির্দেশনা থাকলেও কেনো এসব দিয়ে কাজ করছে জানতে চাইলে ওই কাজের রাজ মিস্ত্রি জানালেন এগুলো দিয়েই কাজ করতে বলেছে মালিক। লকডাউনের জন্য ভালো মাল আনতে পারছে না তাই।

একই এলাকার একটু দূরেই রাস্তা ভাঙন রোধে চলছে ওপেন বক্স কালবার্ড নির্মাণের বিশাল কাজ। তারই পাশে বড় বড় ২টি স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে নি¤œমানের পাথর (সিলেটি পাথরের মত)। ওই স্থানে কথা হয় কাজের মাঝি পরিচয় দেওয়া  বাচ্চু ও হান্নানের সাথে । এ পাথর কেনো এখনো সরানো হয়নি জানতে চাইলে তারাও দোহাই দিলেন লকডাউনের।

নি¤œমানের পাথর কেনো আনালেন জানতে চাইলে বলেন, ভালো পাথর পাঠানোর জন্যই বলা হয়েছিলে। কিন্তু সিলেট থেকে এই পাথর পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলাকাবাসী জানান- সড়কের বিভিন্ন স্থানে কালভার্টগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের পাথর দিয়ে। সড়কের পাশে এখন যে বন্যা প্রতিরোধক যে ড্রেন ও রাস্তার এল  ড্রেনগুলো করা হচ্ছে তা আর কি বলবো।

প্রতিবেদনকে বলেন আপনি সচক্ষে দেখেন কি দিয়ে কাজ করছে। এতটা খারাপ মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা বলার ভাষা নেই।

আমরা বারবার অভিযোগের পরও ঠিকাদার কিসের জোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে উন্নয়নের জন্য। আর নাম মাত্র কাজ করে এলাকাবাসীকে ঠকিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু টিকাদার নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক জসিম  জানালেন, জিনিসগুলোতো আর আমরা বানাইনা, কোন কারণে মাল খারাপ আসতেই পারে। অফিস থেকে যেহেতু পাথর সরানোর কথা বলা হয়েছে। আমার কথা পরিষ্কার সড়িয়ে ফেলবো। কেউতো আর ইচ্ছা করে মাল খারাপ দেয় না। তিনি আরও বলেন, আমি যদি ৮ টাকা দিয়ে মাল কিনতে পারি সাড়ে ৮ টাকা দিয়ে কি কিনতে পারবো না। আমারও তো বিল তুলতে হবে।  জোর করে কাজ করার তো কোন সুযোগ নেই। নি¤œমানের পাথর সড়িয়ে নেওয়ার নির্দেশের পরও কোন এল ড্রেনে নি¤œমানের পাথর (কংকর) দিয়ে কাজ করা হচ্ছে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলনে বললেইতো আর সড়িয়ে ফেলা যায় না। এখন নিতে গেলে  আবার গাড়ি ভাড়া খরচ হবে আমার। ভালো মাল এলে ওই গাড়িতে এগুলো নিয়ে যাবে।

কথা হয় কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র রায়ের সাথে। তিনি জানান- এ নিয়ে ২য় বার নি¤œমানের মালামাল অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। এরপরও যদি ঠিকাদার নি¤œমানের নির্মাণ সমাগ্রীদিয়ে কাজ করে সেক্ষেত্রে পদেক্ষপ কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী জানান বিষয়টি যেহেতেু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি উনারাই সিদ্ধান্ত নিবেন এ বিষয়ে।

ঠিকাদারকে দেওয়া ২য় চিঠিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ধর্ম মোহন চাকমা ও অমর বিকাশ চাকমা (এল.কে.এস.এস)’কে প্রকল্প থেকে নি¤œমানের মালামাল অপসারণ পূর্বক প্রতিটি কাস্টিং এ সশরীরে উপস্থিত থেকে কার্য সম্পাদন করার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রকৌশলী।