এ মুহূর্তের সংবাদ

দোকান ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আতঙ্কের অবসানে ৩ দফা প্রস্তাব

সুপ্রভাত ডেস্ক »

প্রস্তাবিত প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশের সাধারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকান ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

-advertise-

এই পরিস্থিতিতে সরকারের বাস্তবসম্মত নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যবসায়ীদের মাঝে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি (বিডিবিএমএস)।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা সরকারের নীতিগত অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন করে, যেখানে ভ্যাট আদায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু উৎপাদন ও আমদানিকারক পর্যায়ে রাখার কথা বলা হয়েছে। তারা এমন নীতি ব্যবস্থা চায়, যাতে সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি কোনো করের চাপ সৃষ্টি না হয়।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকান ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে একটি সহজ, ন্যায়সংগত এবং বাস্তবভিত্তিক ভ্যাট কাঠামো বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকান ব্যবসায়ীরা। কিন্তু, সম্প্রতি প্যাকেজ ভ্যাট নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এবং কতিপয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব সরকারের জনমুখী নীতি সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়ে মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করছে। সমিতি এই ধরনের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের নিকট সুনির্দিষ্ট ৩ দফা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো-

(১) বার্ষিক ৪০ লক্ষ টাকা টার্নওভারের ওপরের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দোকানগুলোর জন্য বার্ষিক পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা নির্ধারিত প্যাকেজ ভ্যাট নির্ধারণ করা।

(২) ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানগুলোর জন্য বার্ষিক ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা প্যাকেজ ভ্যাট নির্ধারণ।

(৩) চট্টগ্রামসহ দেশের অন্য সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় সমমান বা সমন্বিত হারে বার্ষিক ভ্যাট নির্ধারণ করা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্যাকেজ ভ্যাট সংগ্রহ কার্যক্রমকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে অবশ্যই মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত অংশীজন, তথা বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাথে কার্যকর সমন্বয় করতে হবে।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, অংশীজনদের বাদ দিয়ে বা তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা ও সঠিক বাস্তবায়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।