সুপ্রভাত ডেস্ক »
সাড়ে তিন বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সহিংসতার ঘটনার নিখুঁত হিসাব মেলাতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে এক উপ-পুলিশ কমিশনারের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পুরো এলাকাকে মরণফাঁদে পরিণত করার অভিযোগে অবশেষে মামলা দায়ের করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ৯টার দিকে বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এই বিস্ফোরক মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৫৮জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ এবং গণমাধ্যমে আসা ভিডিও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে যারা সরাসরি এই সহিংসতা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছে, তাদেরকেই আসামি করা হয়েছে। কোনো অপরাধী পার পাবে না।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, এই উত্তেজনার আড়ালে ছিল এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। পুলিশ বলছে, ধৃত ব্যক্তিরা কেবল রাস্তায় নেমে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগই করেনি, বরং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল অন্য কিছু।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ধর্ষণকারী মো. মনির হোসেনকে থানা বা আদালত হেফাজতে নেওয়ার আগেই মব জাস্টিস বা পিটিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ছিল একদল যুবকের। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা এবং সরকারকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা। তবে পুলিশের সময়োচিত ও কঠোর অবস্থানের কারণে সেই জঘন্য ছক ভেস্তে যায়।
সহিংসতার পর থেকেই শান্ত বাকলিয়াকে অশান্ত করার কারিগরদের খুঁজতে মাঠে নামে পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের যৌথ স্কোয়াড। সোমবার (২৫ মে) গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে চালানো হয় চিরুনি অভিযান। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ (যার মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মীও রয়েছে) মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যেভাবে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ মে। স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে মুহূর্তের মধ্যে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে দুপুরের পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে মাঠে নামে একদল উগ্র লাঠিয়াল।
বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে শুরু হয় বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। একপর্যায়ে পুলিশের একটি টহল গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় দাঙ্গাকারীরা। আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি খোদ উপ-পুলিশ কমিশনারও।
চেয়ারম্যানঘাটার এই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও। সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দেওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে বাকলিয়া ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের নতুন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।



















































