কারাবাসের বদলে পড়তে হবে বই দোষী প্রমাণিত সত্ত্বেও কারাগারে

326

যেতে হচ্ছে না  দণ্ডিতকে

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া

ভিসা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের ঘটনায় দায়েরকৃত প্রতারণার মামলায় দোষী প্রমাণিত হলেও কারাগারে যেতে হচ্ছে না অভিযুক্ত এক আসামিকে। কারাবাসের বদলে তাকে বই পড়তে হবে। গাছ লাগাতে হবে। খাওয়াতে হবে এতিমদের। নিয়মিত পড়তে হবে নামাজ। মাদক থেকেও দূরে থাকতে হবে।কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিনব এ রায় দেওয়া হয়েছে। আসামিকে সংশোধনের সুযোগ দিতেই এ রায় দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার দেব। আর তাই রায়ে আসামির ছয় মাসের কারাদন্ডাদেশ হলেও তা স্থগিত রাখা হয়েছে। আইনের পরিভাষায় এটাকে বলে স্থগিত সাজা।অভিযুক্ত আসামির নাম সুলতান আহমেদ। তিনি চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা গ্রহন করে ভিসা না দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। ৯ বছর মামলা চলার পর গত ২৪ আগস্ট এই রায় দেন বিচারক।

এই রায়ে খুশি বাদি-বিবাদি উভয়ই। আদালতের বিচারক রায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রবেশন কর্মকর্তা করে আসামিকে ১২টি শর্ত মেনে চলতে বলা হয়েছে। আসামি সব নির্দেশনা যথাযথভাবে মানছে কিনা প্রবেশন কর্মকর্তা সে ব্যাপারে প্রতি তিন মাস পরপর প্রতিবেদন দিয়ে জানাবেন আদালতকে।

প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে ছয় মাসের কারাদন্ডাদেশ ভোগ করতে হবে আসামিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ এমরান বলেন, বিদেশ পাঠাতে ভিসা বিক্রির চুক্তিপত্র করেও প্রতারণা করার অভিযোগে ২০১১ সালের নভেম্বরে সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। নয় বছর মামলা চলার পর গত ২৪ আগস্ট আসামিকে ছয় মাসের কারাদন্ডাদেশ দেন আদালত। তবে আসামির বয়স ষাটোর্ধ্ব হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে আদালত তাকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন। ছয় মাসের দন্ডাদেশ স্থগিত রেখে আসামিকে ১২টি শর্ত দিয়েছেন।

আদালতের বিচারক রাজীব কুমার দেব প্রবেশনকালীন সময়ে আসামিকে যে ১২টি শর্ত পূরণ করতে বলেছেন। মামলার দন্ডিত আসামি সুলতান আহমেদ বলেন, ‘সংশোধনের সুযোগ দেওয়ায় বিজ্ঞ বিচারকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিপালন করতে আইনজীবী  হিসেবেও ভূমিকা রাখব আমি।জানা গেছে, চলতিবছরের মার্চ মাসে মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানও পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত একটি মামলায় এ ধরনের একটি রায় দিয়েছিলেন।