শৈল-সৈকত ও দেশগ্রাম

আনোয়ারায় মার্কেটের সামনে দোকান বসানো নিয়ে ব্যবসায়ী-ইজারাদারের সংঘর্ষ, আহত-৭

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা >>

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মার্কেটের সামনে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে মার্কেটের ব্যবসায়ী এবং ইজারাদারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এনসিপি নেতাসহ ৭জন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৩জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

---------

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, ব্যবসায়ী মো. সুমন (৪৫), আব্দুর রহিম (৩৫), ইকবাল কবির (৫০), সাইফুদ্দিন (৩০), শহিদ (৪০), আলী হোসেন (৩৫), আজগর (৪৫)।

জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজারে “এ আলী শপিং কমপ্লেক্সে”র চলাচলের রাস্তায় একপক্ষ দোকান নির্মাণ করে। এসময় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাতে বাঁধা দেয়। পরবর্তীতে ইজারাদারের লোকজন এসে ব্যবসায়ীদের সাথে মারামারিতে জড়ায়।

এবিষয়ে ব্যবসায়ী আলী আহমেদ জানান, দুপুর দু’টায় যুবদল নেতা নয়নের নেতৃত্বে আমাদের মার্কেটের চলাচলের রাস্তার উপর দোকান নির্মাণ করতে আসে। এসময় আমরা তাদের বাঁধা দিলে তারা চলে যায়। পরবর্তীতে বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাকির এবং যুবদল নেতা আজম খানের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহকারে মিছিল নিয়ে এসে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে ৭-৮ জনকে আহত করে। আহতদের মধ্যে ৩জনে অবস্থা আশংকাজনক।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাকির আহমেদ বলেন, আমি বাজারের ইজারাদার। আমার দলের কয়েকজন ছেলে বাজারের খালি জায়গায় দোকান বাঁধতে চেয়েছিলো কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট ভেঙে দেয়। এসময় ক্ষতিগ্রস্তরা ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে।

এসময় আহত আনোয়ারা উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমি ঘটনাস্থলের অনেক দূরে আবুল হোসেন মার্কেটের ওখানে বসা ছিলাম। এসময় অতর্কিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার উপর হামলা করে আমাকে গুরুতর আহত করে।

আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যা ০৭টায় আহত ৪জন হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ৩জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয় এবং ১জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি চলে যায়।

ঘটনার বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছে ঘটনাটি এনসিপি আর বিএনপির মধ্যে ঘটেছে। আসলে বিষয়টি এমন নয়, প্রাথমিকভাবে শুনেছি মার্কেটের ব্যবসায়ী এবং ইজারাদারদের মধ্যে দোকান বসানো নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।