চট্টগ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্ত থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি আমাদের সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়ের এক নিদারুণ প্রতিফলন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর ওই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে আসছে কিশোরগ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা ও মাদককেন্দ্রিক বিরোধের মতো ভয়াবহ সব তথ্য। একটি তরুণ প্রাণের এভাবে অকালে ঝরে যাওয়া আমাদের বাধ্য করছে এক কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে—চট্টগ্রামের অলিগলি এখন কিশোর অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
তদন্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই কিশোর অপরাধীরা চরম নৃশংস হয়ে উঠছে। কখনো বড় ভাইদের নির্দেশে প্রভাব বিস্তার, কখনো মাদক সেবনের টাকা জোগাড়, আবার কখনো প্রেম-ঘটিত বিরোধের জের ধরে তারা হাতে তুলে নিচ্ছে ধারালো অস্ত্র। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ‘গ্রুপ’ কালচারের নামে গড়ে ওঠা এই কিশোরগ্যাংগুলো এখন পাড়া-মহল্লার ত্রাস। লিফটের গর্তে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়াবহ নৃশংসতা প্রমাণ করে যে, এই কিশোরদের মনে আইনের প্রতি কোনো ভয় নেই এবং মানবিক মূল্যবোধ তাদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত।
চট্টগ্রামে কিশোরগ্যাং কালচার হুট করে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ‘বড় ভাই’ বা রাজনৈতিক প্রশ্রয়। রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে লোকবল বাড়াতে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এক শ্রেণির তথাকথিত নেতা এই কিশোরদের ব্যবহার করছেন। ফলে এই কিশোররা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার এক ধরনের নিশ্চয়তা পায়। যখন ১৬-১৭ বছরের একজন কিশোর জানে যে তার পেছনে প্রভাবশালী কেউ আছে, তখন সে যেকোনো জঘন্য অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। এই ‘পলিটিক্যাল শেল্টার’ বা রাজনৈতিক ছত্রছায়াই কিশোর অপরাধের মূল কারণ।
কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দোষ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের পারিবারিক কাঠামোতে যে ভাঙন ধরেছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে এবং গভীর রাত পর্যন্ত সে কেন বাসার বাইরে থাকছে—এই প্রশ্নগুলো তোলার সময় এসেছে। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার কিশোরদের অপরাধ জগতের ফ্যান্টাসিতে নিমজ্জিত করছে। ভার্চুয়াল গেমের সহিংসতা তারা বাস্তবে প্রয়োগ করতে চাচ্ছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এই অরাজকতা বন্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। শুধু ছিঁচকে কিশোরদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, বরং যারা নেপথ্যে থেকে এদের পরিচালনা করছে, সেই ‘গডফাদার’ বা ‘বড় ভাইদের’ আইনের আওতায় আনতে হবে।
আমরা আর কোনো মায়ের বুক খালি হতে দেখতে চাই না। কিশোরগ্যাং নামক এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে না পারলে আজ যে ছাত্রটি প্রাণ হারিয়েছে, কাল সেই তালিকায় অন্য কেউ যুক্ত হবে। চট্টগ্রামবাসীকে নিরাপদ রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে এখনই কিশোরগ্যাংয়ের লাগাম টেনে ধরতে হবে। প্রশাসন, পরিবার এবং সমাজ—সবাইকে একযোগে এই ব্যাধির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
তদন্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই কিশোর অপরাধীরা চরম নৃশংস হয়ে উঠছে। কখনো বড় ভাইদের নির্দেশে প্রভাব বিস্তার, কখনো মাদক সেবনের টাকা জোগাড়, আবার কখনো প্রেম-ঘটিত বিরোধের জের ধরে তারা হাতে তুলে নিচ্ছে ধারালো অস্ত্র। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ‘গ্রুপ’ কালচারের নামে গড়ে ওঠা এই কিশোরগ্যাংগুলো এখন পাড়া-মহল্লার ত্রাস। লিফটের গর্তে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়াবহ নৃশংসতা প্রমাণ করে যে, এই কিশোরদের মনে আইনের প্রতি কোনো ভয় নেই এবং মানবিক মূল্যবোধ তাদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত।
চট্টগ্রামে কিশোরগ্যাং কালচার হুট করে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ‘বড় ভাই’ বা রাজনৈতিক প্রশ্রয়। রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে লোকবল বাড়াতে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এক শ্রেণির তথাকথিত নেতা এই কিশোরদের ব্যবহার করছেন। ফলে এই কিশোররা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার এক ধরনের নিশ্চয়তা পায়। যখন ১৬-১৭ বছরের একজন কিশোর জানে যে তার পেছনে প্রভাবশালী কেউ আছে, তখন সে যেকোনো জঘন্য অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। এই ‘পলিটিক্যাল শেল্টার’ বা রাজনৈতিক ছত্রছায়াই কিশোর অপরাধের মূল কারণ।
কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দোষ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের পারিবারিক কাঠামোতে যে ভাঙন ধরেছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে এবং গভীর রাত পর্যন্ত সে কেন বাসার বাইরে থাকছে—এই প্রশ্নগুলো তোলার সময় এসেছে। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার কিশোরদের অপরাধ জগতের ফ্যান্টাসিতে নিমজ্জিত করছে। ভার্চুয়াল গেমের সহিংসতা তারা বাস্তবে প্রয়োগ করতে চাচ্ছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এই অরাজকতা বন্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। শুধু ছিঁচকে কিশোরদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, বরং যারা নেপথ্যে থেকে এদের পরিচালনা করছে, সেই ‘গডফাদার’ বা ‘বড় ভাইদের’ আইনের আওতায় আনতে হবে।
আমরা আর কোনো মায়ের বুক খালি হতে দেখতে চাই না। কিশোরগ্যাং নামক এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে না পারলে আজ যে ছাত্রটি প্রাণ হারিয়েছে, কাল সেই তালিকায় অন্য কেউ যুক্ত হবে। চট্টগ্রামবাসীকে নিরাপদ রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে এখনই কিশোরগ্যাংয়ের লাগাম টেনে ধরতে হবে। প্রশাসন, পরিবার এবং সমাজ—সবাইকে একযোগে এই ব্যাধির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।


















































