প্রি-পেইড মিটারের নকশা অনুমোদনের কাজ শুরু

কেজিডিসিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক »

গ্যাসের অপচয় কমাতে প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জাপানের টয়োকিকি কোম্পানি লিমিটেডকে। গ্রাহক পর্যায়ে প্রি-পেইড মিটারের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬ শত। এরমধ্যে প্রায় সবাইকে অনুমোদন দিয়ে নকশা আহ্বান করলে ৩৩ হাজারের মতো নকশা জমা পড়ে। মিটার বসানো শুরুর আগে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বাড়ানো হয়েছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। এখন শুরু হয়েছে নকশা অনুমোদনের কাজ।

গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির উপ মহাব্যবস্থাপক ও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাহিদ আলম তথ্যসমূহ নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা ঠিকাদার নির্বাচন করার পরও দীর্ঘদিন তাদের কাজ বুঝিয়ে দিতে পারিনি। আগস্টের শেষ দিকে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরে জাপানের টয়োকিকি নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কাজ পেয়ে তারা গ্রাহকদের নকশাগুলো যাচাই-বাছাই করাসহ সার্ভের কাজ শুরু করেছে।’

নকশা অনুমোদনের কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কিছু অফিশিয়াল ও প্রশাসনিক কাজ করেছে। চলতি সপ্তাহ থেকে তারা নকশা অনুমোদনের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাকি নকশাগুলোও অনুমোদন পাবে। এরমধ্যে কারো নকশায় যদি কোনো ত্রুটি থাকে তাহলে সার্ভের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

প্রি-পেইড মিটারের আবেদনকারীর তুলনায় নকশা জমাকারীর সংখ্যা এতো কম থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকে শুরুর দিকে কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে শেষ মুহূর্তে কাজ করতে চান। তাই তারা হয়তো নকশা জমা দেননি। আমাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরাও আবেদন ও নকশা নেবো। কেননা আমাদের এ প্রকল্পের টার্গেট হলো এক লাখ প্রি-পেইড মিটার বসানো। তবে যারা দেরিতে আবেদন করেছেন, তারা ক্রম অনুযায়ী পিছিয়ে পড়ার কারণে প্রি- পেইড মিটার পেতে দেরি হবে।’

কবে নাগাদ মিটার আনা হবে এবং গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) পাওয়ার একটি জটিলতা আছে। টয়োকিকি বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলার চেষ্টা করছে। আশা করছি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাপান থেকে মিটার আনার কাজ শুরু হবে। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি, আরও আগে এলসি খুলে নভেম্বরের আগে জাপান থেকে মিটার আনার কোনো সুযোগ পাই কিনা।’

সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ বুঝে পাওয়ার পর জাপান থেকে কনটেইনারে করে আলাদা চালানে মিটারগুলো আনবে এবং গ্রাহকদের সংস্থাপন করবে। এক্ষেত্রে তারা প্রতি চালানে ১৫ থেকে ২০ হাজার মিটার আনবে। গ্রাহকদের যারা এখনও আবেদন করেনি, তাদের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। এ প্রকল্প শেষ করার পর আমাদের বাকি ৪ লাখ ৩৮ হাজার মিটারেও প্রিপেইড সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রিপেইড মিটার বসানোর পাইলট প্রকল্প শুরু হয় ২০১৫ সালে। জাইকার অর্থায়নে ২৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ প্রকল্পটিতে ৬০ হাজার সংযোগে প্রিপেইড মিটার সংস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ‘আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্প’ নেওয়া হয়। ২০২১ সালের ১৮ মে সংস্থাটির এক লাখ গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদন পায়। ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে প্রিপেইড মিটারের জন্য গ্রাহকদের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।