ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ছড়া ও কবিতা

বোশেখ মানে

মোস্তাফিজুল হক

বোশেখ মানে রঙিন ঘুড়ি
লাটাই সূতোয় ওড়াউড়ি।
খুকুর হাতে কাঁচের চুড়ি
চিনির ঘোড়া মুড়কি মুড়ি।

বোশেখ মানে নবডঙ্কা
শাক-পান্তায় কাঁচালঙ্কা।
মেলায় কেনা চিনির হাতি
বাঁদর নাচের মাতামাতি।

বোশেখ মানে প্রাণের মেলা
বটতলাতে গ্রামীণ খেলা।
মায়ের প্রিয় তাঁতের শাড়ি
মেলায় কেনা শখের হাঁড়ি।

বোশেখ মানে নাগরদোলা
হস্তশিল্প মেলায় তোলা।
দাদুর হাতে নতুন ছাতা
হাল সনে ফের নতুন খাতা।

সবার হাতে ঘূর্ণি-ঝুড়ি
দাদুর সাথে ঘোরাঘুরি।
বোশেখ মানে বর্ষবরণ
প্রাণোল্লাসে শঙ্কা হরণ।

 

 

ছবির ভেতর ছবি

মোশতাক আহমেদ

লিখতে গেলে হয় না লেখা হয় না আঁকাজোঁখা
আব্বু বলেন শোন বলি আজ খোকা
পাঠ্য বইয়ের পাতায় মনটা ঝোঁকা-
লেখাপড়া বাদ তুই কী নিয়ে যে ভাবিস
হেট স্যারে কন তুই ছেলেটা আস্ত গবেট রাবিশ।

এসব বলা কওয়ায় আমি ধার ধারি না কিচ্ছু
আমার নাকি অবাধ্য এক ক্ষ্যাপাটে মন বিচ্ছু
কাজকর্মে মন বসে না খেলায় থাকি মেতে
পাখির গানে আরও মাতায় বৈশাখি ধানখেতে।

ভাটিরদেশে উদাস মাঝি গান গেয়ে যায় বেয়ে
হাতছানি দেয় নদীর ধারে ঢোলকলমির মেয়ে
এই বৈশাখে তেপান্তরে ধান কাটে রোজ কৃষাণে
রোদে ভেজা শরীর জুড়ায় মৈঠালি সুরের গানে।

এসব রেখে মন বসে না লেখাপাড়ায় আমার
আমার এ মন ঘুরে বেড়ায় নিসর্গ ক্ষেত খামার
পাহাড় বেয়ে ঝরনা নামে হরিণছানা তীরে
জানলা গলে সূর্য আসে আমার ছোট্র নীড়ে।

ছবির ভেতর ছবি দেখে মনের ভেতর নিত্য
মাতিয়ে রাখে বাঁচিয়ে রাখে হরবোলা এই চিত্ত।

 

আমার উঠোন

আখতারুল ইসলাম

এক চিলতে উঠোন আছে বাড়ির মধ্যিখানে
এই উঠোনের ভালোবাসা আমায় শুধু টানে ।
উঠোন জুড়ে রোদ চিকচিক সূর্য যেন হাসে
একটি ফড়িং নেচে ওঠে পাশের দূর্বাঘাসে।
এই উঠোনে খেলায় মাতি দোয়েল শ্যামা গায়
গানে গানে বলছে যেন আয়রে কাছে আয়।
বাতাস এসে সুড়সুড়ি দেয় জামার ভাঁজে ভাঁজে
গাছের পাতা বলছে কথা আমার সকল কাজে।

এই উঠোনে সোনার বিকেল ঘাসের বুকে পাঠ
উঠোন যেন ভালোবাসার এক চিলতে মাঠ।
এই উঠোনে ইচ্ছে ঘুড়ি মেঘের পাখা ওড়ে
দুচোখ জুড়ে আনন্দ ঢেউ স্বপ্ন আসে ভোরে।
ছবির মতো আঁকা উঠোন নকশি কাঁথা ফুল
এই উঠোনের সাথে কারো হয় না কোনো তুল।
উঠোন জুড়ে মেঘের ছায়া চাঁদের মিনার ওঠে
দিনের শুরু স্বপ্নমাখা ভোরের আলো ফোটে।

এই উঠোনে হাঁটতে শিখি এই উঠোনে খেলা
উঠোন জুড়ে নানা রঙে প্রাণে প্রাণে মেলা।
এই উঠোনে মায়ের আঁচল বাবার দুহাত ধরে
আমি যেন হচ্ছি বড় আলোর জীবন গড়ে।

 

 

বোশেখ এলেই ছোটে

শফিকুল আলম টিটন

ঢাক কুরকুর ঢোলক বাজে শব্দ নাচে কানে
বাঁশি বাজায় বাউলেরা কণ্ঠে বাউল গানে।
খাজা গজা খাচ্ছে কিনে মুয়া মিঠাই মুড়ি
পান্তা ইলিশ কাঁচা মরিচ, কুচো পিঁয়াজ ভুরি ।।

শোভাযাত্রা নানামুখী যাচ্ছে হেঁটে হেঁটে
কলরোলে ডানপিটেরা ভরছে ডাটা নেটে ।
সেলফি তোলে আনন্দে আর খলখলিয়ে হেসে
বর্ষবরণ করছে যেনো পরম ভালোবেসে ।।

যায় না যাওয়া খুব বেশি দূর ঠেলাঠেলি হাঁটায়
গরম যেনো খামচে ধরে শিলে এবং পাটায়।
এটাই নাকি পহেলা বোশেখ, বর্ষবরণ দিন
কাল বোশেখি দাপুটে তাই ঝরলে জীবন ক্ষীণ ।।

বাউল গানের আসর জমে, পসরা জমে খাবার
হরেক রকম খেলনা বেচে করছে ক্রেতা সাবার।
দোকানিদের আনন্দ খুব বোশেখ এলেই ফোটে
পহেলা বোশেখ এলেই সবাই রমনাতে যায় ছুটে ।।

 

 

ষড়ঋতুর গাঁথা

রাহেলা আক্তার

বাংলা মায়ের আঁচল জুড়ে
ছয়টি ঋতু গাঁথা,
রূপের সেরা বাংলা আমার
গয়না সবুজ পাতা।

গ্রীষ্মকালে তপ্ত খরা
ঘূর্ণি-চূর্ণ করে,
বর্ষা এলে কদম কেয়া
তামার ঘুঙুর পরে।

শরৎ আসে মেঘের ভেলায়
শিউলি ফোটে ডালে,
হেমন্তের নবান্ন উৎসব
কৃষাণীর নাচ তালে।

শীতের বুড়ি চাদর গায়ে
আসে বাংলাদেশে,
বসন্তরাজ ফুলের ডালা
আনলো নতুন বেশে।

আরও কত রূপ যে তাহার
কথার ঝুড়ির নেই শেষ,
পাহাড়-নদী, ঝরনা-সাগর—
ষড়ঋতুর এই দেশ।

 

 

খোকা-খুকির নববর্ষ

মুকুল হোসেন

বছর ঘুরে এলো আবার
বাংলা নববর্ষ,
খোকা-খুকি মেলায় যাবে
মনে জাগে হর্ষ।

খোকার মনে বায়না জাগে
কিনবে খোকা ঘুড়ি,
খুকি আবার কান্না করে
কিনবে শখের চুড়ি।

হাতি নাচে, ঘোড়া নাচে
নাগর দোলায় করে,
খোকা-খুকির আনন্দ পায়
হাতির পিঠে চড়ে।

 

নিঝুম অরণ্যে

সুজন দাশ

বনের ধারে হরেক পাখি,
গাইছে তারা থাকি থাকি!
হাসছে রবি রৌদ্র মেলে,
বৃক্ষ হাসে সবুজ ঢেলে।

নাম না জানা গুল্মলতা,
অবাক দেখি কইছে কথা!
দিচ্ছে গাছে শীতল ছায়া,
আপ্যায়নের পাচ্ছি মায়া।

সুরেলা সুর আসছে কানে,
যাচ্ছি মজে পাখির গানে।
চেয়ে দেখি পাতার ফাঁকে,
টুনটুনি এক বসে ডাকে।

একলা আমি বিজন বনে
বসে আছি উদাস মনে।
মৃদুমন্দ বইছে বাতাস
হাসছে দূরে সুনীল আকাশ।

বন তুলসী ফুলে ফুলে,
চাইছে অবাক মাথা তুলে।
হাত বুলিয়ে আদর করে,
স্মৃতি নিলাম মনের ঘরে।

 

বৈশাখের এই আবেসে

জোবায়ের রাজু

বাজছে বাঁশি মোহন সুরে
বৈশাখি দিনকাল,
ভুলে যাব গতকালের
যা ছিল গোলমাল।

কোথায় যেন রয়ে গেছে
হালখাতার রেশ,
গ্রাম্যমেলায় যাবই যাব
আহা বেশ বেশ।

রমনা পার্কের বটমূলে
যাব সবার আগে,
পান্তা ইলিশ একটু বেশি
থাকবে আমার ভাগে।

ডাক ঢোলের ঝনঝনানি
কান যে ঝালাপালা,
ভেঙে ফেলব পুরান দিনের
জং ধরা তালা।

নববর্ষের এই বেলাতে
বিরোধ যাব ভুলে,
নতুন অধ্যায় বরণ করতে
দুয়ার দেব খুলে।

 

ভাবনা চিন্তা

সুশান্ত কুমার দে

গাছের ডালে সবুজ পাতা কেমন করে হয়
সবুজ পাতার মধ্যে কেন ফুলটি বসে রয়?
মৌমাছিও দিশেহারা, পায় কুসুমের ঘ্রাণ
বনের যত পাখপাখালি তারা শোনায় গান।

পুব আকাশে মিষ্টি হেসে, প্রতিদিনের ভোর
সূর্য কেন জেগে উঠেই- কড়া নাড়ে দোর?
পশ্চিম কোণে আনমনে, সূর্য ডোবে যখন
আকাশ জুড়ে কী অপরূপ তারা ফোটে তখন

দিনের শেষে রাত্রি আসে, কোন নিয়মেই বল
দিনের সূর্য, রাতের তারা আলোয় ঝলমল?
নদ-নদীতে জোয়ার ভাটা; কেমন করে হয়
হাজার হাজার বছর ধরে একই ধারায় বয়।

সকল জীবের জন্ম দানে, গর্ভে ধরেন মাতা
সকল সন্তান মায়ের কাছেই পায় যে স্বাধীনতা!
মায়ের গর্ভে জন্মেই পুরুষ – পুরুষ অহঙ্কারী
এত কিছুই ভাবনা চিন্তায়; মনটা বড়ই ভারী!

 

গ্রীষ্মের দুপুরে

সালাউদ্দিন নাজিম

গ্রীষ্মের দুপুরে
কী যে রোদ বাপুরে
ঝরছে তো গা থেকে ঘাম।
খেলা ফেলে ঘুমা না
ওরে আবির, রুমানা
যাস না রে যাস না রে থাম।
জ্বলে যাবি, পুড়ে যাবি
তেজ কেমন দেখ না
শীত আর গ্রীষ্মের
রোদ বাপু এক না।
খেলবি তো বিকেলে
একসাথে সকলে
রোদটার তেজ যখন কমবে!
ওই পাড়ার জুমা, আঁখি
জুনায়েদ আর সাকি
খেলাতে যোগ দিলে কেমন না জমবে?