সাগরপাড়ের ২ ইটভাটা উচ্ছেদ হলো

0
227

৫২ শুনানির পর খারিজ হলো রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অবশেষে উচ্ছেদ হতেই হলো। ২০১৩ সালে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মুনীর চৌধুরী উত্তর কাট্টলী সাগরপাড়ের দুই ইটভাটা (কেএমএল এবং এমআরএস) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ভেঙে দিয়েছিলেন চিমনি। শহরের ভেতরে ইটভাটার অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে তা পরিচালনা করায় তাদের জরিমানাও করেছিলেন। উপকূলীয় বনভূমি কেটে গড়ে তোলা এই দুই ইটভাটা মুনীর চৌধুরীর করা জরিমানার বিরুদ্ধে আদালতে রিট করে। সেই রিট চলতে থাকে বছরের পর বছর। সম্প্রতি রিট খারিজ হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আসে। গতকাল সকাল থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং ভূমি অফিস সম্বন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে উচ্ছেদ করে ইটভাটা দুটো। একই সাথে উদ্ধার করেন ১৪৯ একর সরকারি খাসজমি।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দুই ইটভাটাই গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এদিকে ২০১৩ সালে একবার উচ্ছেদের পর গত সাত বছর ধরে কীভাবে তারা ইট প্রস্তুত করে আসছিল জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর-চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক নুরুল্লাহ নূরী বলেন, ‘২০১৩ সালে অভিযানে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মুনীর চৌধুরীর করা জরিমানার টাকার বিরুদ্ধে তারা আদালতে রিট করে। সেই রিট ৫২টি তারিখে শুনানি হয়ে সম্প্রতি খারিজ হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এবার পুরো ইটভাটাই উচ্ছেদ করা হয়।’
তিনি বলেন, সাগরপাড়ের উপকূলীয় বন ধংস করে ইটভাটা দুটি গড়ে উঠেছিল। আইন অনুযায়ী শহরের ভেতরে ইটভাটা থাকতে পারে না। বলা যায়, ইটভাটা দুটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তাদের উৎপাদন চালিয়ে আসছিল।
এদিকে সরকারি খাসজমিতে ইটভাটা থাকায় তা উচ্ছেদের জন্য চেষ্টা করে আসছিলেন কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার আওতাধীন এলাকায় খাসজায়গা খুঁজতে গিয়ে এই ১৪৯ একর জায়গার সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে ইটভাটা থাকায় দখলে আনা যাচ্ছিল না। পরবর্তী সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া শেষে জায়গাটি দখলে আনা হয়। এখন আমরা পুরো জায়গা খুঁটি দিয়ে ঘেরাও করে দিয়েছি।
এই দুটি ইটভাটা ছাড়াও ডিটি-বায়েজিদ সংযোগ সড়কে ‘আবদুস সোবহান ব্রিকস’ নামে আরও একটি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয় গতকাল। উচ্ছেদ অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোয়াজ্জম হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক জমির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পরিবেশ আইনে নগরীর ভেতর কোনো ইটভাটা থাকতে পারবে না। একই সাথে উপকূলীয় বনের কাছাকাছি এবং পাহাড়ের কাছেও কোনো ইটভাটা থাকতে পারবে না।