ম্যারাডোনার নামে নামাঙ্কিত হলো নাপোলি স্টেডিয়াম

151

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক :
ইতালির বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব নাপোলির হোমগ্রাউন্ড নামাঙ্কিত করা হল সদ্য প্রয়াত ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনার নামে। স্তাদিও সান পাওলো স্টেডিয়াম শুক্রবার থেকে নাম বদলে আত্মপ্রকাশ করল স্তাদিও দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা নামে। নয়া নামকরণের পর আগামী ১০ ডিসেম্বর কৌলিবালি, ড্রায়েস মার্টেন্সরা স্তাদিও দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম হোম ম্যাচটি খেলবেন।
গত সপ্তাহে ৬০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন আর্জেন্তিনা কিংবদন্তি তথা নাপোলি ফুটবল ক্লাবের একদা অবিসংবাদী ফুটবল নায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবল ঈশ্বরের মৃত্যুর পরেই স্তাদিও সান পাওলো স্টেডিয়ামের নাম বদলে দিয়েগো ম্যারাডোনার নামে নামাঙ্কিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল ন্যাপেলস সিটি কাউন্সিল। ন্যাপেলস সিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অপরিসীম প্রতিভা এবং ফুটবল জাদু দিয়ে প্রয়াত দিয়েগো ম্যারাডোনা নাপোলি ক্লাবের জার্সিকে একদা সমৃদ্ধ করেছিলেন। দু’টি ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব ছাড়াও অন্যান্য ট্রফি দিয়ে গোটা শহরের ভালোবাসা উনি আদায় করে নিয়েছিলেন।’
আর্জেন্তাইন চ্যাম্পিয়নের এইসব খেতাব জয় শুধু নাপোলি ক্লাবের জন্য ছিল না বরং গোটা শহরটার জন্য ছিল। এই শহর পরিচিতি পেয়েছে তার জন্যই।’ নাপোলি ক্লাব এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘দিয়েগো ম্যারাডোনার নামে স্তাদিও সান পাওলো নামকরণের যে সিদ্ধান্ত ন্যাপেলস সিটি কাউন্সিল গ্রহণ করেছে তাতে তারা যারপরনাই উচ্ছ্বসিত।’ দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঠিক পরেই নাপোলি স্টেডিয়ামের নামকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ন্যাপেলস শহরের মানুষ একবাক্যে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান।
এপ্রসঙ্গে ন্যাপেলসের মেয়র লুইগি দি ম্যাজিস্ট্রিস জানিয়েছিলেন, ‘নাপোলির আরেক নাম ম্যারাডোনা। ফুটবলের প্রতি ম্যারাডোনার প্যাশন সম্পর্কে এই শহরের সকল মানুষ অবগত। ম্যারাডোনা পৃথিবীসুদ্ধ সকল নেপোলিয়ানদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ম্যারাডোনার পরিবারকে আজ সকল নেপোলিয়ানের আলিঙ্গনবদ্ধ। যা কখনও শেষ হওয়ার নয়।’ উল্লেখ্য, ১৯৮৪ বার্সেলোনা ছেড়ে ন্যাপেলসে আগমণ ঘটেছিল বছর তেইশের ম্যারাডোনার। নাপোলি তখন ছন্দহীন, দেশের প্রিমিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগে টিকে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। দিয়েগো আসতেই যেন কোনও এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছিল সবকিছু।
আর্জেন্তিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার পরের বছরেই ম্যারাডোনা ইতালি সেরা করেছিলেন নাপোলিকে। ১৯৯০ আবার সেরা নাপোলি। মাঝে ১৯৮৮-৮৯ উয়েফা কাপ ঘরে এসেছিল ইতালির ক্লাবটির। ব্যস ম্যারাডোনার হাত ধরে ওইটুকুই। এরপর থেকে আজও নাপোলি তার হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে।