মাদককারবারির মাইক্রোবাস চাপায় পুলিশ সদস্য নিহত

73

নিজস্ব প্রতিবেদক  >
নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় মাদককারবারির মাইক্রোবাস চাপায় পুলিশের এএসআই কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে চান্দগাঁও থানাধীন মেহেরাজখান ঘাটা পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি নোয়াখালী লক্ষ্মীপুরের দক্ষিণ জয়পুর গ্রামের কাজী নাদেরের জামানের পুত্র।
ঘটনাস্থলে থাকা এক কনস্টেবল জানান, রাতে টহলরত অবস্থায় একটি কালো মাইক্রোবাসকে থামার সংকেত দেন তারা। পার্বত্য এলাকা থেকে চোলাইমদ বহন করে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছিল এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাড়িটি থামার সংকেত দেওয়া হয়। সালাউদ্দিন ফোর্সসহ ভোর চারটার দিকে গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে গাড়িটি গতি কমালেও, পরে গতি বাড়িয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় সালাউদ্দিনকে। সালাউদ্দিন ছিটকে পড়ে মাথায়, কোমড়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। গাড়িটির গতিরোধ করতে গিয়ে আহত হন আরেক পুলিশ কনস্টেবল মো. মাসুম। তিনি ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে ঘাড়ে, বুকে ও হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। মুহূর্তেই চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স গাড়িটির পিছু নিলে ঘটনাস্থল হতে আনুমানিক ১ কিলোমিটার দূরে বোর্ড স্কুলের কাছে গাড়িটি উদ্ধার করে। গাড়িটি রেখে চালক ও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এএসআই কাজী মো. সালাহউদ্দীন এবং কনস্টেবল মো. মাসুমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল নিয়ে যান। চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাহউদ্দীনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মো. মাসুম চমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘাতক মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করে গাড়ির ভিতরে যাত্রীর সিটে ৩৫টি প্লাস্টিকের বস্তায় মোট ৭০০টি চোলাইমদ উদ্ধার করে। সর্বমোট ৭৩০ লিটার দেশের তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় মাদকবাহী একটি গাড়িকে থামার সংকেত দিলে গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে সালাউদ্দিনের উপরে উঠিয়ে দেয়। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এএসআই কাজী মো. সালাহউদ্দীন ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশে যোগদান করেন।
তিনি জানান, ঘাতক গাড়িটি বর্তমানে থানা হেফাজতে আছে। গাড়ির মালিক, ঘটনায় জড়িত চালক ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।