চট্টগ্রাম ওয়াসার গড় বিল : গ্রাহকদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত সেবামূল্য

49

মিটার সংযোগ থাকা সত্ত্বেও পানি ব্যবহারে গড় বিল কেন-এর কোন সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছেনা। চট্টগ্রাম ওয়াসার অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে ফ্ল্যাট বা পরিবার প্রতি ন্যূনতম হিসাব ধরে যেভাবে বিল আদায় করা হচ্ছে, তা ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮০ হাজারের বেশি গ্রাহকের মধ্যে ২০ হাজার গ্রাহক দিনে ১ হাজার লিটার পানির গড় হিসেবে বিল দেন, যাদের ওয়াসার মিটার সংযোগ রয়েছে, এদের সিংহভাগই আবাসিক গ্রাহক। গড় বিল আদায় শুরুর পর পানির বিল বাবদ তাদের তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। অনাবাসিক গ্রাহকদেরও একই রকম ভোগান্তি।
চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তার মতে আবাসিক-অনাবাসিক মিলিয়ে ৮১ হাজার গ্রাহকের মধ্যে মিটার বিহীন গ্রাহক ২ হাজার, এদের ন্যূনতম গড় বিল দেওয়া হয়, তাহলে ২০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক যাদের মিটার সংযোগ রয়েছে তাদের ওপর কেন ‘গড় বিল’ এর আঘাত?
বেশি বিল নেওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি মো. ফজলুল্লাহ বলেন, আগের একটা হোল্ডিংয়ের বিপরীতে বর্তমানে প্রতি ফ্ল্যাট ধরে বিল দেওয়ায় খরচ বেড়েছে। যারা আপত্তি করছে তাদের বিষয় সমাধান করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যেখানে মিটার সংযোগ রয়েছে, বিল হবে মিটার অনুযায়ী আন্দাজ করে ‘গড় বিল’ কেন হবে, এর যৌক্তিকতাই বা কী! এ ব্যাপারে কোন সদুত্তর নেই ওয়াসা কর্তৃপক্ষের।
কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সিস্টেম লস ও কিছু ক্ষেত্রে মিটার রিডারদের দুর্নীতি ঢাকতে চট্টগ্রাম ওয়াসা গ্রাহকদের ওপর ন্যূনতম বিল চাপিয়ে দিচ্ছে। গ্রাহক ভোগান্তি বন্ধে সব সংযোগে মিটার স্থাপন ও মিটারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণে প্রতিবেদন দিতে ডিএমডি (ফাইন্যান্স)’র নেতৃত্বে একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ওয়াসার এমডি সংবাদ মাধ্যমে জানান। চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড সভায় সদস্য মহসীন কাজী গড় বিল প্রদানের সিদ্ধান্ত ২০ বছর চলতে পারে না মর্মে মত প্রকাশ করে বলেন, ওয়াসার বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ার মূলে গড় বিলের কারণে অনেক গ্রাহকের বিল শোধ করতে না পারা।
সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে গ্রাহক সেবার উন্নতি, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার ও জনগণের অর্থের সাশ্রয় করা কিন্তু দেখা যাচ্ছে, যথাযথ সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, সরকারি সেবা সংস্থাগুলির নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত বিল, ‘ভূতুড়ে বিল’-এসব বিষয়ে নানা প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানিতে ময়লা, পানিতে অতিরিক্ত লবণ, প্রয়োজন অনুসারে নগরবাসীকে পানি সরবরাহে ব্যর্থতা এসব নিয়ে নগরবাসীর অভিযোগও আছে।
নগরবাসী সরকারকে রাজস্ব দিয়েও যথাযথ সেবা পাবে না এটি প্রত্যাশিত নয়। আমরা চাই, চট্টগ্রাম ওয়াসা সকল গ্রাহকের মিটার সংযোগ প্রদান করে মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল দেবে এবং এর অন্যথা হবে না। সংস্থার ব্যর্থতা কিংবা দায় সেবা গ্রহীতার ওপর চাপানো যুক্তিযুক্ত নয়।