চকরিয়ায় গৃহবধূ ও কৃষক খুন

0
216

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া :

চকরিয়া বরইতলী ইউনিয়নে সম্পত্তি ভোগের লোভে আলতাফ হোসেন (৫৮) নামের এক কৃষককে গলাটিপে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও এক ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন নিহত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী রহিমা খাতুন ও ছেলে মো.মামুন। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বিবিরখিল সবুজবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
বরইতলী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দু শুক্কুর বলেন, নিহত আলতাফ হোসেন একজন স্বাবলম্বী কৃষক। তার এক স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে এক ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেন। আর তিন ছেলে বাড়িতে থাকতো। আর মেয়েদের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন এবং এক মেয়ের এখনো বিয়ে দিতে পারেননি।
হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পলাশ রায় বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিহতের বাড়িতে যাই। এসময় আলতাফ হোসেনের মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে তার গলায় আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে।
এদিকে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে পাহাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে উর্মি আক্তার (২১) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোরাও জব্দ করা হয়। বুধবার সকাল দশটার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের স্টেশন পাহাড় এলাকার ভাড়া বাসার কাছ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, স্বামী পরিত্যক্তা উর্মি হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন প্রথম স্বামী মো. মামুন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। উর্মি আক্তার হারবাং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তি নগর এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, উর্মি আক্তারের সঙ্গে কয়েকবছর আগে বিয়ে হয় লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকার মোহাম্মদ মামুনের সঙ্গে। তাদের সংসার চলাকালীন একবছরের মধ্যে উর্মিকে ছেড়ে লাপাত্তা হয়ে যান স্বামী মামুন। এরপর উর্মি সম্পর্কে জড়ান কক্সবাজার সদর এলাকার রুবেল নামের এক যুবকের সঙ্গে। তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বিয়ে হলেও সেই সম্পর্কও বেশিদিন টিকেনি।
এই অবস্থায় ফের সম্পর্ক উন্নয়ন হয় প্রথম স্বামী মামুনের সঙ্গে। কয়েকমাস আগে তারা হারবাং স্টেশন পাহাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেন। তবে প্রিিতনিয়ত দুইজনের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় উর্মিকে।
চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’