ক্যাম্প ছাড়ছে রোহিঙ্গারা : সামাজিক সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাবে

0
203

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সমস্যার শেষ নেই। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার একরের মতো পাহাড়Ñবনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে। আর্থ-সামাজিক নানা সমস্যায় পতিত হয়েছে স্থানীয় জনগণ। টেকনাফ, উখিয়ার কয়েক লাখ স্থানীয় মানুষ এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার তুলনায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। অনেকে ব্যবসাÑবাণিজ্যও হারিয়েছেন। নষ্ট হয়েছে স্থানীয়দের চিরায়ত সংস্কৃতি ও সংহতিও।
তুলনামূলকভাবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর তারা স্থানীয়দের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে নানা প্রকার সংঘাতে। চুরি, ছিনতাই, খুনখারাবির মতো ঘটনায়ও জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে চোরাপথে আসা মাদক ইয়াবার প্রসার ও বিস্তার নিয়ে এক প্রকার অসহায় পরিস্থিতিতে আছে। অনেক শক্ত অবস্থান নেওয়ার পরও ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর ইয়াবা চোরাচালানও বৃদ্ধি পায়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে ইয়াবা পাচার ও কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়। ক্রসফায়ারের মতো ঘটনার পরও ইয়াবা পাচার ও কারবার বন্ধ করতে পারেনি সরকার।
এরমধ্যে অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে দেশের আনাচেÑকানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছে। তবে অধিকাংশই পাড়ি দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে বিভিন্ন বাহিনীর হাতে ধৃত হয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এভাবে ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসার কারণে একদিকে সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে এদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব কথা ভেবে সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ অনেকদূর অগ্রসরও হয়েছে। তবে আশঙ্কার সংবাদ হচ্ছে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যদিয়ে প্রচুর রোহিঙ্গা বাইরে বেরিয়ে আসছে এবং বিভিন্নস্থানে পালিয়ে যাচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়ার নিচে মাটি খুঁড়ে সে পথ দিয়ে বেরিয়ে আসার সচিত্র প্রতিবেদন সুপ্রভাতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে শুরুতেই প্রশাসনকে সতর্ক হতে হবে। এভাবে পালিয়ে যাওয়ার পথ যেন তৈরি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। খবরে বলা হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে অধিকাংশ রোহিঙ্গা সন্তুষ্ট থাকলেও এদের মধ্যে অপরাধপ্রবণ যারা তারা এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সরকারকে এসব কিছু নজরে রাখতে হবে। ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন পথে বিভিন্ন দেশে গিয়ে তারা আশ্রয় নিলেও তার দায় বাংলাদেশ সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে। আশ্রিতদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে না পারার অভিযোগ উঠবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। কাজেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই হবে না শুধু। তা যথার্থ লক্ষ্য পূরণ করছে কি না সে বিষয়ে তদারকি জারি রাখতে হবে।