এ মুহূর্তের সংবাদ

কিউইদের বিধ্বস্ত করে সমতায় টাইগাররা

সুপ্রভাত স্পোর্টস ডেস্ক »

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলের কাছে ২৬ রানে হার মানে বাংলাদেশ। তাই, সিরিজে ফিরে আশার জন্য দ্বিতীয় ম্যাচ জয়ের বিকল্প ছিল না। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ঝলক দেখিয়ে কিউইদের ৬ উইকেটে বিধ্বস্ত করে সমতায় ফিরে এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে মিরাজরা।

আগামী ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে হবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। আজ দু’দলই চট্টগ্রাম এসে পৌঁছাবে। পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে এবং তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে সহজ জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার এ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নাহিদ রানার বোলিং তোপে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ১০ ওভার বল করে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন রানা। জবাবে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ৮৭ বল বাকী থাকতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

তানজিদ সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন। শান্ত ৫০ রান করার পর আহত হয়ে অবসর নেন। প্রথম ওয়ানডের মত এই ম্যাচেও টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টাইগারদের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রথম ৭ ওভারে ২৫ রান তুলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও নিক কেলি।

তাসকিন-শরিফুল উইকেটের দেখা না পাওয়ায় অষ্টম ওভারে প্রথমবারের মত আরেক পেসার রানাকে বোলিংয়ে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেটের দেখা পান রানা। ১৩ রান করা নিকোলসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রানা। তিন নম্বরে নামা নতুন ব্যাটার উইল ইয়ংকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি রানা।

নিজেদের দ্বিতীয় ওভারে ইয়ংকে ২ রানে শিকার করেন তিনি। পরপর দুই ওভারে রানার জোড়া আঘাতের পর বাংলাদেশকে তৃতীয় উইকেট এনে দেন ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথামকে ১৪ রানে বিদায় দেন সৌম্য। ৫২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর নিউজিল্যান্ডকে চাপমুক্ত করেন কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস। চতুর্থ উইকেটে ৬৬ বলে ৫৬ রান যোগ করে দলের স্কোর ১শ পার করেন তারা। এই জুটিতে ওয়ানডেতে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান কেলি। কেলি-আব্বাসের জমে যাওয়া জুটিতে ভাঙন ধরান রানা।

৩৪ বলে ১৯ রান করা আব্বাসকে দারুণ ক্যাচে সাজঘরের পথ দেখান উইকেটরক্ষক লিটন দাস। হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসকে বড় করে শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কেলি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৩ রানে শরিফুলের বলে মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়কে ক্যাচ দেন তিনি। ১০২ বল খেলে ১৪টি বাউন্ডারি হাঁকান কেলি। দলীয় ১৪৫ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে কেলি ফেরার পর নিউজিল্যান্ডের পরের দিকের ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি রানা-রিশাদরা। এতে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। এসময় নিউজিল্যান্ডের আরও দুই ব্যাটারকে শিকার করে ওয়ানডেতে নিজের দশম ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মত ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করলেন রানা। গত মাসে মিরপুওে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন রানা। এবার ১০ ওভারে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিলেন তিনি।

রানার পাশাপাশি শরিফুল ৩২ রানে ২টি, তাসকিন ৪৬ রানে, সৌম্য ২৭ রানে ও রিশাদ ২১ রানে ১টি করে উইকেট নেন। জয়ের জন্য ১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের শেষ বলে ওপেনার সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ২টি চারে ৮ রান করে নিউজিল্যান্ড পেসার ন্যাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন তিনি।

তিন নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য। ১ ছক্কায় ৮ রানে বিদায় নেন তিনি। ২১ রানে ২ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ছক্কা মেরে ৩৩ বলে ওয়ানডেতে ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ। তার ঝড়ো হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৭তম ওভারে ১শতে পা রাখে বাংলাদেশ। দলীয় ১৪১ রানে থামেন তানজিদ। স্পিনার জেইডেন লেনক্সের শিকার হবার আগে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৮ বলে ৭৬ রান করেন তানজিদ। তৃতীয় উইকেটে শান্তর সাথে ১১০ বলে ১২০ রান যোগ করেন তানজিদ।

তানজিদের বিদায়ে ক্রিজে এসে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি শততম ওয়ানডে খেলতে নামা লিটন দাস। এরপর ওয়ানডেতে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন শান্ত। ১৩ ইনিংস পর ওয়ানডেতে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। তবে ক্র্যাম্প সমস্যায় আহত অবসর নেন শান্ত। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭১ বলে ৫০ রান করেন শান্ত। ঐসময় ম্যাচ জিততে ৩২ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। পঞ্চম উইকেটে ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৮৭ বল বাকী থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫টি চারে হৃদয় ৩০ এবং মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্য্যাচ সেরা হন রানা।