আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা নেই জেলা আওয়ামী লীগের

179

চকরিয়ায় এমপি জাফর আলম

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া  >>
চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগে শুক্রবার কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভায় সাংসদ জাফর আলমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে দুদিন আগে চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে ১১ জুন বিকালে উপজেলা পেকুয়া উপজেলা মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা এবং চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের যৌথ আয়োজনে চকরিয়া শহরের থানা রাস্তার মাথায় সিস্টেম কমপ্লেক্সে প্রতিবাদ সমাবেশে ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাফর আলম এমপি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবু মুছার সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান আলহাজ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহাবুদ্দিন মাহমুদ, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাংগীর আলম, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী প্রমুখ।
পরে এমপি জাফর আলমের নেতৃত্বে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া পৌরশহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকাল পাঁচটার দিকে সিস্টেম কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাংসদ জাফর আলম।
সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ জাফর আলম বলেছেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র পদ থেকে প্রার্থী মনোনয়নে তালিকা তৈরিতে তারা লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে ছিলাম। নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করেছি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি চকরিয়া-পেকুয়ার মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। দলের দুর্দিনে আমরাই ছিলাম। কিন্তু তুচ্ছ একটি ঘটনার জেরে নাটক সাজিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাদের এই ধরনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এমপি জাফর আলম অভিযোগ তুলে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান অতীতে শুধু মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে তা নয়, তিনি সরকারি টাকা আত্মসাতেও জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে এমপি জাফর আলম বলেন, আমাকে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। কারণ আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার পরীক্ষিত সৈনিক। তাই বলবো, আমাকে অব্যাহতি দেয়ার সেই ক্ষমতা জেলা আওয়ামী লীগের নেই। আমি জেলা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মেয়াদোত্তীর্ণ কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে বিনীত আবেদন জানাই।