অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনকেন্দ্রে বাড়াচ্ছে সংক্রমণ ঝুঁকি

200

মোহাম্মদ কাইয়ুম <<

ছুটিতে বন্ধুদের সাথে নিয়ে সী-বিচে ঘুরতে এসেছেন শাহনেওয়াজ সিরাজ। সমুদ্রের পানিতে নেমে আনন্দে মেতে থাকলেও তাদের কারো মুখে ছিল না মাস্ক। মাস্ক কোথায়? জানতে চাইলে বলেন- সঙ্গে এনেছি, অস্বস্তি লাগে তাই পকেটে রেখেছি। মাস্ক না পরা কিংবা স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি শাহনেওয়াজদের একার নয়। এমনই চিত্র দেখা মেলে সী-বিচে ঘুরতে আসা বেশিরভাগ পর্যটকদের মধ্যে।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পতেঙ্গা সী বিচ ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আসা বেশিরভাগ পর্যটকদের মুখে মাস্ক নেই। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা বলা হলেও সেখানেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। করোনার ভয়হীন বেপরোয়া পর্যটকদের বেশিরভাগই একসাথে মিলে-মিশে ছবি তোলা থেকে শুরু করে সমুদ্রের পানিতে নেমে আনন্দ-উল্লাসে মেতে থাকতে দেখা যায়। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার চিন্তা দূরেই থাক, তাদের মধ্যে করোনা নিয়ে কোন ধরনের ভয় কিংবা উদ্বেগ দেখা যায়নি।
দেশে চলতি মার্চের শুরু থেকে আবারো করোনা সংক্রমণ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সংক্রমণ বাড়ায় মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সরকার থেকে বলা হলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে তা মেনে চলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি করোনা সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসব পরামর্শের মধ্যে জনসমাগম বন্ধে লকডাউন, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিতকরণ, স্কুল কলেজ না খোলার পাশাপাশি পর্যটন এলাকায় চলাচল সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ বাড়ার মধ্যে সী বিচে আসার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, যান্ত্রিক জীবনের একগেয়েমি থেকে কিছুটা প্রশান্তি পেতে এখানে আসা। কিন্তু এখানে এসে দেখা যায় বেশিরভাগ পর্যটকদের মুখে মাস্ক না মানার পাশাপাশি বেপরোয়াভাবে ঘোরাঘুরি করতে। তাছাড়া এখানে আসা ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের মুখে মাস্ক নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আবারো ভয়াবহ হতে পারে।
ভাটিয়ারি থেকে ঘুরতে আসা টিংকু কর্মকার বলেন, মানুষের মধ্যে করোনার ভয় ওঠে গেছে। একবছর বাসাবন্দি থাকতে থাকতে মানুষ বেপরোয়া হয়ে এখন মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছে না। বিয়ে থেকে শুরু করে পর্যটন কেন্দ্র- সবক্ষেত্রে মানুষ আগের মতোই ঘোরাঘুরি করছে। এছাড়া টিকা আসার পর থেকে মানুষের মধ্যে যা ভয় ছিল তাও চলে গেছে। যদি জনগণের মধ্যে সচেতনতা না থাকে তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেড়ে চলবে।
কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে বেড়াতে আসা আনোয়ার হোসেন পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে সী বিচে। পর্যটকদের মুখে মাস্ক না থাকার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে এসে দেখছি বেশিরভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কারো মধ্যে সচেতনতা দেখিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের আরো কঠোর উদ্যোগ নেয়া দরকার।
পর্যটনকেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সুপ্রভাতকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। লোকজন যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে, তাহলে আবারো ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। আমরা প্রশাসনকে বলেই যাচ্ছি বিনোদন কেন্দ্রগুলোর কর্মকাণ্ড সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া বলেন, জনগণকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করার জন্য আমরা ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। এছাড়া সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে সতর্ক ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করে যাচ্ছি। যদি লোকজন মাস্ক ব্যবহারে সচেতন না হয় পরবর্তীতে আমরা জরিমানা আদায়সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পর্যটনকেন্দ্রে কোন ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এস এম জাকারিয়া বলেন, এ বিষয়েই আগামীকাল (আজ) আমাদের একটি মিটিং আছে। মিটিং শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।