বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আল্লামা আবদুল হাই নদভী

0
236

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেনে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী। বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ ও মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশের এক যৌথ সভা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২৩ মে বায়তুশ শরফ কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদে আছর সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আনজুমনে ইত্তেহাদের সম্পাদক (সংগঠন ও সমাজ কল্যাণ) আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া এবং মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা মামুনুর রশীদ নূরী যৌথভাবে আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীকে বায়তুশ শরফের পীর ঘোষণা করেন বলে সংশ্লিষ্টারা জানিয়েছেন।
মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সদস্য বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াছের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী সাহেবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আহসান উল্লাহ (আহসান সাইয়্যেদ), মরহুম শাহ মাওলানা কুতুব উদ্দিন (রহ:) এর সন্তান মাওলানা ছালাহ উদ্দিন বেলাল, আল্লামা কাজী জাফর আহমদ, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ডাইরেক্টর আলহাজ্ব মর্তুজা ছিদ্দিকী, বায়তুশ শরফ মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মুসা, মাওলানা কাজী শিহাব উদ্দীন, মাওলানা সিরাজুল হক নদভী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাঈমুল্লাহ, মুহাদ্দিস মাওলানা ফজলুল রহমান, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম, আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইয়াছিন, মাওলানা শাহ আলম, মাওলানা মুহিব্বুর রহমান ও হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান। এছাড়া আনজুমানে ইত্তেহাদ, মজলিসুল ওলামা ও আনজুমনে নওজোয়ানের সহ¯্রাধিক দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী ১৯৬৪ সালে লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের মিয়াজী পাড়া গ্রামে বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে জামান শাহ সূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ.) ও মুহতারামা মনছুরা বেগমের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৮ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ এবং পুত্রদের মধ্যে ১ম। বর্তমানে তিনি বায়তুশ শরফ কমপে¬ক্স, জিলানী মার্কেট, ধনিয়ালাপাড়ায় বসবাস করে আসছেন।
তিনি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মের সুবাদে তিনি কোরআন ও ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান পরিবারেই শিক্ষা লাভ করেন। এরপর সেনেরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি কুমিরাঘোনা আখতারুল উলুম মাদরাসা অধ্যয়ন করেন এবং বড়হাতিয়া এশাতুল উলুম মাদরাসা থেকে দাখিল কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। ১৯৮৩ সালে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদরাসায় আলিম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে আলিম, ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। ১৯৯০সালে কামিল পাশ করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ভারতের আশ শরিয়াতুল ইসলামীয়া এন্ড উসূলুদ দ্বীন, নদওয়াতুল উলামা ইউনিভার্সিটি, লখনৌতে ভর্তি হয়। ভারতের লখনৌ ইউনিভার্সিটি হতে বি.এ (অনার্স) এবং ভারতের আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে এম ফিল (গবেষণা হাদিস তত্ত) অর্জন করেন।
বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ আল¬ামা সৈয়দ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী (রাহ.) কর্তৃক ছহীহ বোখরী শরীফের সনদ প্রাপ্ত হয়। তিনি বাংলা, ইংরেজী, আরবী, উর্দু, ফার্সী, হিন্দি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। ইসলামের প্রচার প্রসার এবং দেশ বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি থাইল্যান্ড, ভারত, সৌদি আরব, জর্দান, ইরাক, ফিলিস্তিন ও মায়ানমারসহ বহু দেশে গমন করেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী বহুগ্রন্থ লিখেছেন। তাঁর রচিত গ্রস্থ দেশ-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি বই প্রকাশিত হয়।
আল্লামা আবদুল হাই নদভী ১৯৯৩ সাল থেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি বর্তমানে সিনিয়র শিক্ষাক হিসেবে অধ্যাপনায় আছেন। আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি: এর পরিচালক, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড এর শরিয়াহ সুপারভাইজারিং কমিটির সেক্রেটারী, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর শরিয়াহ সুপারভাইজারিং কমিটি সদস্য, মার্কেন্টাইল ইসলামি ইনস্যুরেন্স লিমিটেড এর শরিয়াহ সুপারভাইজারিং কমিটি সদস্য ছাড়াও বহু ধর্মীয়, সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। বায়তুশ শরফ থেকে প্রকাশিত মাসিক দ্বীন দুনিয়া ও শিশু কিশোর দ্বীন দুনিয়ার সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।