সুপ্রভাত ডেস্ক »
দেশব্যাপী উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মিসেলস (হাম) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগী ও শিশু মৃত্যুর হার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ইপিআই এর একাধিক কর্মকর্তা জানান, হুট করে গতকাল কোন ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই দেশব্যাপী টিকা প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অথচ আজ সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস শেষ হলেও এখনো টিকাদান নিয়ে কোন অগ্রগতি হয় নি। কোন বয়সী শিশুদের এ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে সে সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারে নি সরকার।
অথচ ১ এপ্রিল বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে। এদিকে আজ প্রতিবেদন লেখা অবধি ইপিআইকে কোন ধরনের নির্দেশনা মন্ত্রনালয় থেকে কোনো প্রকার নির্দেশনা আসেনি বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইপিআই’র এক কর্মকর্তা বলেছেন, ১ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত অনেকগুলো বৈঠক হয়েছে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে। সেসব বৈঠকে অনেকে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের পরিবর্তে ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের এ কর্মসূচির মধ্যে আওতায় নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। কারন বর্তমানে হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম।
ক্যাম্পেইনের ২ কোটি টিকা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে প্রদানে প্রস্তুত ইপিআই
চলতি বছরের জুন – জুলাই মাসে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই কোটি টিকা প্রস্তুত রেখেছিলো সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। সেই প্রস্তুতকৃত টিকা-ই গতকাল সরকারকে ঘোষিত জরুরি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইপিআই। এ বিষয়ে ইপিআই এর স্টোর কিপার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এখানে এ মুহুর্তে ২ কোটি টিকা মজুদ আছে৷ এ টিকা আমরা ক্যাম্পেইন এর জন্য মজুদ রেখেছিলাম, কিন্তু বর্তমান সাময়িক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ টিকাগুলো প্রদান করা হবে পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পেইনের জন্য টিকা সংগ্রহ করা হবে। আমরা সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি যে এই ক্যাম্পেইনে কত জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে এবং কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোন কোন জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ নির্দেশনা পেলে আমরা সেখানে টিকা পৌঁছে দিতে পারবো।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ প্রান্তিক জনবল
হঠাৎ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী সরকারের ঘোষিত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে মাঠ পর্যায়ে ভ্যাকসিন প্রদানকারী প্রায় ২৭ হাজার জনবল। এ ২৭ হাজার এর মধ্যে ১৩০৫ জন পোর্টার (জেলা,উপজেলা থেকে ভেসকিন সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে পৌছে দেওয়ার কাজে যুক্ত) ও ২৬ হাজার চিকিৎসা সহকারী (সেকমো)। এই চিকিৎসা সহকারীদের মধ্যে আছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, স্বাস্থ্য সহকারী, সহস্বাস্থ্য সহকারী, পরিদর্শক। মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মাস ধরে পোর্টাররা বেতন না পাওয়ায় অনেকেই অন্যান্য পেশায় চলে গেছেন এবং ২৬ হাজার চিকিৎসা সহকারী (সেকমো), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, স্বাস্থ্য সহকারী, সহ স্বাস্থ্য সহকারী, পরিদর্শক—এরা পদোন্নতির এর জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করে কোন সুরাহা না পাওয়ায় কাজ করতে অনীহা পোষণ করছে। ফলে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এ এক সেমিনার অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পোর্টারগণের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও স্বাস্থ্য সহকারী, সহ স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শকদের প্রমোশন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দেশের এ সংকটময় মুহূর্তে তাদের পাশে থাকতে অনুরোধ করেছেন।
বিশেষ টিকা প্রদানে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি ইপিআইকে
রোববার দেশব্যাপী শুরু হওয়া বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপ-পরিচালক ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, “আমাদের এখনো পূর্নাঙ্গ কিছু জানানো হয় নি। কত বছর থেকে কত বছর পর্যন্ত শিশুদের এবং কোন কোন জেলায় টিকা দেবে—কোন কিছুই এখনো জানানো হয়নি আমাদের। তবে আমরা প্রস্তুত আছি, আমাদের জানানো মাত্রই আমরা টিকা সরবরাহ করতে পারবো।”

















































