হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ সামির আহমেদ সুমন (৪০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ জনে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে জাতীয় বার্নের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল এবং তার ইনহ‍্যালেশন ইনজুরি ছিল। এর আগে নুরজাহান আক্তার তার ছেলে শাওন নামে দুইজনের মৃত্যু হয়। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ জনে দাঁড়ালো। তবে বাকি ৬ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিস্ফোরণে দগ্ধ শাওন (১৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এর আগে সন্ধ্যায় নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) নামে এক নারী মারা যান।

নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকে ছয়তলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় সোমবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন (১৬) মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন (৪০), তার স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩৫), মেয়ে আয়েশা (৪), ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন হোসেন (৩০)। তাদের মধ্য থেকে ২ জনের মৃত্যু হলো।
দগ্ধ সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন জানান, তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে। সাখাওয়াত হালিশহরে মোটরপার্টসের ব্যবসা করেন। তার ভাই সুমন পর্তুগাল প্রবাসী। চলতি মাসের ৪ তারিখ দেশে এসেছেন। ১৮ তারিখে সুমন পরিবার নিয়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় যান চিকিৎসার জন্য। আরেক ছোট ভাই শিপন হালিশহরেই থাকেন। সোমবার ভোরে তারা সেহরী খান। এর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে। জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।