সুকুমার বড়ুয়া সংখ্যার ছড়া ও কবিতা

ছড়ার বাদশা

জসীম মেহবুব

সুকুমার বড়ুয়াকে
সব্বাই চেনো,
ছড়ার বাদশা তিনি
এই কথা জেনো।
ছড়া ছড়া করে তিনি
হেঁটেছেন কত!
ছড়া লিখে মুছে নেন
হৃদয়ের ক্ষত।
ছড়া লিখে লিখে তিনি
খ্যাতি পেয়েছেন,
ছড়ায় ছড়ায় শত
গান গেয়েছেন।
তাঁর ছড়া শিশু-বুড়ো
সকলের প্রিয়,
এই ছড়া বাদশাকে
ভালোবাসা দিও

 

তাঁর ছড়া

কেশব জিপসী

তাঁর ছড়া সব ঝরঝরিয়ে
তরতরিয়ে উজান বায়,
তাঁর ছড়া সব রকম সকম
আসন পাতে কথার নায়।

তাঁর ছড়া সব ছন্দ তোলে
শিশুর মুুখে বাজায় বোল,
তাঁর ছড়া সব নেচেনেচে
জাগায় মনে দোদুল দোল।

তাঁর ছড়ারা মেঘ গমগম
ঝড় ঝঞ্ঝায় গুড়ুমগুম।
তাঁর ছড়াতে ধমক তুলে
আলসে কুঁড়ের ভাঙে ঘুম।

বীর চাটগাঁর সুকুমারের
বিশ্বজোড়া খ্যাতি, নাম,
তাঁর ছড়া সব মনি মুক্তা
বর্ণালী যার অনেক দাম।

 

 

শিশুদের সুকুমার

বাসুদেব খাস্তগীর

সুকুমার বড়ুয়াকে
ছড়াকার নামে যাঁকে
চিনি সবে চিনি
তাঁর ছড়া পড়া হয়
করছেন মন জয়
অষ্টাশিতে তিনি।

গ্রাম তাঁর বিনাজুরি
মন যায় উড়ি উড়ি
নামে গ্রাম ধন্য
গড়েছেন আঙিনাতে
পাঠশালা নিজ হাতে
শিশুদের জন্য।

 

 

দূর আকাশের তারা

সুব্রত চৌধুরী

সুকুমারের ছড়ার ছন্দে
ছিল অনেক সুর,
ভাসতো নৌকা হালদার বুকে
দূরের সমুদ্দুর।
যেতো শোনা ছড়ার ছন্দে
কক ককা কক ডাক,
মাথার টাকে বিষ্ঠা ছড়ায়
তারে বসা কাক।

ফুটতো নিত্য ছড়াকুঞ্জে
হরেক রকম ফুল,
উপমাতে স্যাটায়ারে
ছিল না তো তুল।
থেমে গেল মসি যে তাঁর
জানুয়ারির দুই,
দূর আকাশের তারা এখন
কেমন করে ছুঁই?

 

 

অন্তরে তার আসন

সুজন সাজু

ছড়া লিখেই নাম কুড়ালো
ছড়া লিখেই খ্যাতি,
স্বদেশপ্রেমের জৌলুশ ঝরে
উৎসব মাতামাতি।

রূপ প্রকৃতির ফুল পাখিরাও
ছন্দের মোহে নাচে,
পাঠে পাঠক তৃপ্তি মেটায়
হারে যাদুর কাছে।

ঢালতে পারে রসের হাঁড়ি
ঢেউ খেলানো প্রীতি,
দেয় ছড়িয়ে সুর অন্যন্যে
রূপ মাধুরীর গীতি।

বহু স্বজন দেশ বিদেশে
আমার মতো পড়ুয়া,
অন্তরে তার আসন স্থায়ী
সেই সুকুমার বড়ুয়া।

 

 

শুভালয়ে সুকুমার

অপু চৌধুরী

পিচঢালা পথ শেষে সবুজের ভিড়ে
আঁকাবাঁকা মেঠোপথ চলে ধীরে ধীরে
তার দুই কূল ঘেঁষে প্রবাহিনী খাল
বর্ষায় হয়ে ওঠে ভারি বেসামাল।

শরতের শেষে এসে পউষালী বিল
হলুদাভ রঙ মেখে হাসে খিলখিল
তারই মাঝে সুকুমার শুভালয়ে বসে
রঙমাখা ছড়া আঁকে মন চষে চষে।

ছড়া তাঁর একবার পড়ো যদি শেষে
সবই যেন মজে যায় আমোদিত রেশে
ছড়া তার বারবার নানা কৌশলে
সুখে-দুখে মানুষের কথা যায় বলে!

ছড়া তাঁর মজাদার শিশুদের মুখে
বড়রাও পড়ে দেখি আহ্লাদী সুখে
ছড়া তাঁর মানে ভাড় কী দারুণ মিল
শুভালয়ে লিখেছেন তিনি অনাবিল।

তাঁর ছড়া রসে ভরা নাচে উল্লাসে
তাঁর ছড়া পড়ে পড়ে ঘাসে ফুল হাসে
তাঁর ছড়া ঘ্রাণে ভরা ফুলে ফুলে ওড়ে
শিশিরের ঢেউ আঁকে শুভালয়ে ভোরে।

 

 

না ফেরার দেশে ছড়াসম্রাট

শচীন্দ্র নাথ গাইন

ছড়াসম্রাট না ফেরার দেশে হবে না তো আর কথা
ছন্দে ছন্দে লতিয়ে যাবে না তার ছড়াদের
লতা।
অগণিত পাঠক কাঁদিয়ে তিনি ওপারে দিলেন পাড়ি
শূন্যতা তার পুরো বাড়িময় থেমেছে ছড়ার গাড়ি।

অপূর্ব তার মাত্রাজ্ঞান আর অন্তমিলের খেলা
লেখনীটা আর হাতে উঠবে না কেটে যাবে দিন-বেলা।
নিজে হেসে তিনি হাসাতেন লোক মলিনতাহীন মুখে
সত্যি কথাকে ছড়ায় বলার সাহসটা ছিল বুকে।

আটপৌরে তার শব্দ চয়নে জুড়ি মিলবে না মোটে
দক্ষ ছড়ার কারিগর তিনি তাই ছিল ছড়া ঠোঁটে।
সুকুমার বড়ুয়ার লেখালেখি চিরতরে গেল থেমে
ছড়ার জগতে গাঢ় কালো ছায়া হঠাৎ এসেছে নেমে।

যার ছড়াগুলো তীক্ষ্ণ এবং কঠিন-কোমলে গড়া
তার বই হাতে পেলে না পড়ে সহজে যাবে না নড়া।
যদিও হবে না তার সাথে আর কখনো কোথাও দেখা
তার নাম তবু যুগযুগ রবে পাঠক হৃদয়ে লেখা।

 

ছড়ার রাজা

বিপ্লব বড়ুয়া

মস্ত বড় কবি তিনি
দেশ জোড়া তার নাম
ছন্দ ছড়ায় বর্ণ লিখে
করলো ভাষার দাম।

দেশ নিয়ে তার ভাবনাগুলো
লিখতো পাতায় পাতায়
পড়তে পড়তে কাটিয়ে দিতাম
লিখে মনের খাতায়।

তিনি হলেন ছড়ার রাজা
অসংখ্য তার প্রজা
ছন্দ ছড়ায় বর্ণ লিখে
পায় যে ভীষণ মজা।

শৈশব থেকে ছড়ার সাথে
করলো জীবন পাড়
ছোট বড় সবার কাছে
অনেক সুনাম তার।

 

 

রাজার রাজা

বিভাস গুহ

হাসির রাজা খুশির রাজা
প্রিয় সুকুমার
ছড়া লেখায় অতুল প্রভাব
নাই তুলনা তাঁর।

রাজাটার সেই রাজ্যে শুধু
ছন্দ ছড়ার মিল
সবার মনে দেয় ছড়িয়ে
খুশি অনাবিল।

ব্যঙ্গরসে তুলে ধরেন
অসঙ্গতি যত
লেখেনি কেউ এমন করে
সুকুমারের মতো।

মজার মজার ছড়া লিখে
খ্যাতি পেলেন বেশ
যত পড়ি তত যেন
কাটে না তার রেশ।

 

সুকুমার

সুপ্রতিম বড়ুয়া

ছন্দ তাঁহার হাতের মুঠোয়
ছড়া মন্ত্রের মতো,
ছড়ায় ছড়ায় ছড়িয়ে যাদু
লিখেন অবিরত।

ছড়ার রাজ্যে তিনি হলেন
মুকুটহীন এক রাজা,
ছড়ায় ছড়ায় সেই সম্রাট
শাসন করেন যা-যা।

ছড়া সম্রাট মাথার ওপর
নেই প্রয়োজন গননে,
চরণধূলা মাথায় নিলাম
ধারণ করলাম মননে।

 

 

জাদুকর

নান্টু বড়ুয়া

সুরে ভাসায় সুরে হাসায়
জাদুকর এক ছন্দের,
ছড়ায় ছড়ায় দেন মিটিয়ে
অজানা সব দ্বন্দ্বের।
মামা আমার, ছন্দের রাজা
তিনিই ছড়া সম্রাট,
ছন্দে ছড়ায় শিল্পিত রূপ
খুঁজেন শুধু দিনরাত।
আর পাবো না এমন মানুষ
খুঁজলে ত্রিভুবনে,
বুক ফেটে যায় শোকে আমার
বুঝবে কোন সে জনে!