সীতাকুণ্ডে আবুল খায়ের স্টিল মিলে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড

সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি চৌধুরীঘাটায় অবস্থিত আবুল খায়ের স্টিল মিলে মধ্যরাতে ১০/১৫জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের হামলা, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল প্রথমে কারখানার দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। লুটতরাজের উদ্দেশ্যে তারা হঠাৎ হামলা চালালে দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি কর্মী, আনসার সদস্য ও কারখানার কিছু কর্মচারী দ্রুত এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে ডাকাতদল সাময়িকভাবে পিছু হটে দক্ষিণ পাশের রেললাইনের দিকে সরে যায়। তবে সেখানেই থেমে থাকেনি তারা। রেললাইন থেকে ইট-পাথর নিক্ষেপ করতে করতে রাত আনুমানিক ১টার দিকে কারখানার প্রধান ফটকে ফের আক্রমণ চালায়। এসময় সিকিউরিটি গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং অফিস কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ঢিল ছুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। অফিসের চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্র ও জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীরা আবারও বাধা দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তা কামনা করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতদলকে প্রতিহত করতে সহায়তা করেন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
কারখানার ব্যবস্থাপনা ইনচার্জ অভিযোগ করে বলেন, “এই সংঘবদ্ধ চক্রটি এর আগেও কয়েকবার একইভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা মূল্যবান লোহা, তামা, পিতল, তামার ওয়্যার, মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দপ্তরেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনার পর থেকে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন। শিল্পকারখানার নিরাপত্তা জোরদার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সীতাকুণ্ডে এ ধরনের ঘটনা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
কারখানার ডিজিএম ইমরুল কায়েস ভূইঁয়া জানান, ডাকাত দলটি বার বার কারখানার লোহা লুটপাট করে। গতকালও তারা লোহা,তামার পাশাপাশি অফিসে হামলা দিয়ে টাকাপয়সা লুট করতে চেয়েছিল। গ্রামবাসি এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।
এব্যাপারে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মাহিনুর জানায়, ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত১৫/২০ জন আসামীর নামে মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেয়া হয়েছে, তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।