গত ৪ ডিসেম্বর সকালে আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায় মোটরসাইকেলে করে এসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান ও বদরুল আরেফীনকে বহনকারী প্রাইভেটকারে চাপাতি দিয়ে হামলা করে কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার বান্দরবান সদর উপজেলার সিকদার পাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুইজন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের সঙ্গে থাকা অপরজনকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।”
চট্টগ্রামে কাস্টমসের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনাটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি ঔদ্ধত্য বলে প্রতীয়মান হয়। বন্দর নগরীর প্রধান শুল্ক ভবনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের হামলা প্রমাণ করে যে দুর্বৃত্তরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
হামলার শিকার হওয়া দুই কর্মকর্তা, একজন রাজস্ব কর্মকর্তা এবং একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, সম্ভবত তাদের শুল্ক ফাঁকি বা চোরাচালান-বিরোধী কার্যক্রমে কঠোরতা দেখিয়েছিলেন। এটি স্পষ্ট যে চোরাচালানের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে সামান্যতম বাধা পেলেও সহিংস হয়ে উঠতে দ্বিধা করছে না। তাদের লক্ষ্য ছিল কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো এবং ভবিষ্যতে তাদের কাজ থেকে বিরত রাখা। রাষ্ট্রের কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের হামলা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখান দিয়ে প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, তার শুল্কায়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা অপরিহার্য। কাস্টমস কর্মকর্তারা যখন ঝুঁকি নিয়ে রাষ্ট্রের রাজস্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন, তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। যদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই তাদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ না করে, তবে তারা কীভাবে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করবেন? এর ফলস্বরূপ, শুল্ক ফাঁকি বাড়বে, চোরাচালানকারীরা আরও উৎসাহিত হবে এবং দেশের বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। কেবল হামলাকারী ব্যক্তিরা নয়, এর পেছনে থাকা মূল হোতা বা চোরাচালান সিন্ডিকেটকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নতুবা, ভবিষ্যতে এমন হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে না। এই হামলার ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। কাস্টমস কর্মকর্তারা যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। চোরাচালানকারীদের ঔদ্ধত্যের কাছে যেন রাষ্ট্রের রাজস্ব সুরক্ষার প্রচেষ্টা পরাজিত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।


















































