পবিত্র ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। উৎসবের এই শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার ধুম পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিপণিবিতানগুলোতে। কিন্তু এই উৎসবের আমেজ ম্লান করে দিচ্ছে নগরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে স্থবির হয়ে থাকা দীর্ঘ যানজট। নগরের কাজীর দেউড়ি, জিইসি, প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু করে নিউমার্কেট কিংবা বহদ্দারহাট—সবখানেই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়েই এক বা একাধিক বড় বিপণিকেন্দ্র রয়েছে। বালি আর্কেড, মিমি সুপার মার্কেট বা আফমি প্লাজার মতো বড় শপিং মলগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খল জটলা। অনেকে সড়কের ওপরই গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করছেন, যার ফলে সড়কের স্বাভাবিক গতি প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সড়ক যেন এখন পার্কিং লট, আর ফুটপাত চলে গেছে হকারদের দখলে।
ট্রাফিক বিভাগের ভাষ্যমতে, ইফতারের আগে সবাই একসঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছাতে চাওয়ায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নগরের বিভিন্ন স্থানে চলমান খোঁড়াখুঁড়ি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, প্রতি বছর ঈদের আগে যানজটের এই চেনা চিত্র জানা থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হলো না? ট্রাফিক পুলিশ ডাইভারশন দিয়ে চেষ্টা করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবর্তক মোড় বা চকবাজারের মতো এলাকায় যেখানে পাঁচটি করে বড় শপিং মল রয়েছে, সেখানে যানজট নিরসনে বিশেষ কোনো ‘ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
যানজটের এই ভয়াবহতা শুধু ক্রেতা বা যাত্রীদের সময় নষ্ট করছে না, বরং মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও চরম প্রভাব ফেলছে। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থেকে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, পণ্যবাহী ট্রাক বা অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবাগুলোও এই জটলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
ঈদ মানে খুশি, কিন্তু সেই খুশির কেনাকাটা করতে গিয়ে যদি দিনের অর্ধেক সময় সড়কেই ধুঁকতে হয়, তবে সেই আনন্দ ফিকে হয়ে আসতে বাধ্য।
বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে শুধু ট্রাফিক পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে লাভ নেই। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধে বিপণিকেন্দ্রের মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় দায়িত্বটি প্রশাসনের। ঈদের বাকি দিনগুলোতে যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অস্থায়ী পার্কিং নিষিদ্ধ করা, হকার উচ্ছেদ করে ফুটপাত চলাচলের যোগ্য রাখা এবং ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা আরও বাড়ানো জরুরি।
আমরা চাই, চাটগাঁর মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ঈদের কেনাকাটা শেষ করে ঘরে ফিরুক। যানজটের ভোগান্তি যেন কারো ঈদের আনন্দকে বিষাদে রূপান্তর না করে। প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপই পারে এই স্থবির নগরীকে সচল করতে।
মতামত সম্পাদকীয়



















































