বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা মানছে না অনেকে

পবিত্র রমজান, আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর এবং গরমের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেচ মৌসুম, যার ওপর নির্ভর করছে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা। এমন এক জটিল সন্ধিক্ষণে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সাতটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, চট্টগ্রামের বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলোতে সেই নির্দেশনার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং উৎসবের প্রস্তুতির নামে চলছে বিদ্যুতের চরম অপচয়।
সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের টেরিবাজার, রেয়াজুদ্দিন বাজার, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে বর্ণিল আলোকসজ্জার মহোৎসব চলছে। সরকারি নির্দেশনায় যেখানে আলোকসজ্জা বর্জন ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলা হয়েছে, সেখানে এই আলোকসজ্জা কেবল আইন অমান্য করা নয়, বরং জাতীয় সংকটের প্রতি চরম উদাসীনতা। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা অব্যাহত আছে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আশঙ্কার কারণ কেবল স্থানীয় নয়, বরং বৈশ্বিকও বটে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানিতে। এমন পরিস্থিতিতে যদি আমরা অভ্যন্তরীণ ব্যবহারে মিতব্যয়ী না হই, তবে আসন্ন গ্রীষ্মে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন যেমন দুর্বিষহ হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি ও শিল্পোৎপাদন।
উৎসবের আনন্দ অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন অন্যের অন্ধকারের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। মার্কেট সমিতিগুলোকে বুঝতে হবে যে, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা ক্রেতা আকর্ষণের মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে পুরো ব্যবসা বাণিজ্যই মুখ থুবড়ে পড়বে। প্রশাসনের উচিত কেবল নির্দেশনা জারি করে ক্ষান্ত না থেকে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি চালানো। যারা সরকারি আদেশ অমান্য করে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা অব্যাহত রাখছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
আমরা এক কঠিন সময় পার করছি। একদিকে অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা। এই সময়ে সামান্য সচেতনতা ও মিতব্যয়িতা আমাদের বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। আমরা আশা করব, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। আলোকসজ্জার ঝলকানি কমিয়ে আমরা যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার জাতীয় সংগ্রামে শরিক হই।