বন্দর ১০ মাসে রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে

সুপ্রভাত ডেস্ক »

নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে পণ্য আমদানি। আগের তুলনায় জাহাজ বেশি আসলেও বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। ফলে ১০ মাসেই রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে বন্দর। বছর শেষে আগের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন মাইলফলক গড়ার অপেক্ষায় বন্দর। ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অটোমেশনসহ সামাগ্রিকভাবে বন্দরের দক্ষতা বাড়ায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ডলারের উচ্চ মূল্য, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় সতর্ক আমদানিকারকরা। বাজারের চাহিদা, লাভ ক্ষতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমদানির জন্য এলসি খুলছেন তারা।

এরপরেও চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউসের পরিসংখ্যান বলছে পণ্য আমদানি বেড়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে তিন কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার টন পণ্য আমদানি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। গেল বছরের একই সময়ে তুলনায় পণ্যের হিসেবে ৫৬ লাখ টন ও টাকার অঙ্কে ১৯ হাজার ১২২ কোটি টাকার বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে।

আমদানি বাড়ায়, বেড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয়ও। অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাটি রাজস্ব আহরণ করেছে ২৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও গত বছরের চেয়ে আয় বেড়েছে সাড়ে নয় শতাংশের বেশি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার এইচ এম কবির বলেন, ‘পণ্য আমদানির তুলনায় গত বছরের তুলনায় একইসময়ে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এটি পায় ২৩.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে পণ্য আমদানির পরিমাণের বিবেচনায়।’এদিকে রাজস্ব কর্মকর্তাদের কলম বিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামাল দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসেই রেকর্ড প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টিইউএস কনটেইনার ও ১১ কোটি ৫০ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে দেশের প্রধান এ সমুদ্র বন্দর। গেল বছরের চেয়ে এ সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। আর জাহাজ বেশি এসেছে ৩৫১টি। তাই বছর শেষে নতুন রেকর্ডের মাইলফলক ছোঁয়ার প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার ও মেরিন সদস্য আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ বছরে আমরা আশা করছি ডিসেম্বরের প্রথম নাগাদই আমরা গত অর্থবছরে যে ক্যাপাসিটি দেখিয়েছিলাম সেটাকে আমরা ক্লোজ করতে পারবো। পুরো ক্যালেন্ডার ইয়ারে আমরা আশা করছি একটা মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবো।’

সবচেয়ে বড় অর্জন, আগে একটি জাহাজকে বহির্নোঙরে তিন থেকে দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে অধিকাংশ জাহাজ এক দিনেই বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারছে। এতে কমেছে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকালে। যাতে কমেছে শিপিং কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয়।

আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েটিং টাইমটা এখন শূন্য। আমরা খুব প্রাউডলিই বলবো এটা, কারণ আমরা চেষ্টা করেছি কন্টিনিউয়াস ব্যবসাবান্ধব এবং জনবান্ধব করার জন্য। নভেম্বরের আজকে পর্যন্ত আউটারে কোনো কন্টেইনার জাহাজকে ওয়েটিংয়ে থাকতে হয়নি।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘প্রফেশনাল ভালো অপারেটর যদি আসে, সেটা দেশি বা বিদেশি হোক। আমরা মনে করি আমাদের দেশের স্বার্থে পোর্টকে যদি আমরা ডেভেলপ করতে চাই, পোর্টকে যদি আমরা আরও কার্যকর করতে চাই তাহলে আমাদের মর্ডান ইকুয়েপমেন্ট লাগবে, মর্ডান টেকনিশিয়ান লাগবে, মর্ডান এক্সপার্ট লাগবে।’

২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করলেও কনটেইনার পরিবহনের বৈশ্বিক তালিকায় এক ধাপ পিছিয়ে যায়।