প্রাণ ফিরে পেল নগরের ডিসি হিল

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির সড়কের পাশে অবস্থিত ডিসি হিল দীর্ঘদিন ধরেই নগরবাসীর প্রাতভ্রমণ ও অবসর কাটানোর অন্যতম ভরসার জায়গা। সকাল, বিকেল এমনকি সন্ধ্যাতেও এখানে শ্বাস নিতে, হাঁটতে ও মানসিক প্রশান্তি পেতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল নিয়মিত প্রাতভ্রমণকারীদের।

নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সরকারি বাসভবন পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত হওয়ায় বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি ডিসি হিলের পরিবেশ উন্নয়নে প্রাথমিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে এলাকাটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও জনবান্ধব করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক সংস্কারের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ডিসি হিলের বিভিন্ন অবকাঠামোতে নতুন করে সাদা ও লাল রঙ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আলোকসজ্জার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়। এই সামান্য উদ্যোগেই বদলে যেতে শুরু করেছে ডিসি হিলের চেহারা।

অবহেলিত এই পাহাড়ে প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগে ভীষণ খুশি প্রাতভ্রমণে আসা বিভিন্ন প্রাতভিত্তিক সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। তারা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে তার এই উদ্যোগের জন্য প্রকাশ্যে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। ৪২ বছরে পা রাখা দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রাতভিত্তিক সংগঠন ‘শতায়ু অঙ্গন’-এর পক্ষ থেকে একটি ব্যানার টাঙানো হয়। সেখানে লেখা ছিল— ‘ডিসি হিলকে নতুন রূপে প্রাণবন্ত করে তোলার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় জেলা প্রশাসককে আন্তরিক অভিনন্দন।’

‘প্রভাতী আড্ডা’ নামের সংগঠন তাদের ব্যানারে লেখে— ‘আমাদের সকলের ভালোবাসা ও ভালো লাগার স্থান ডিসি হিল অঙ্গনকে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলায় মাননীয় জেলা প্রশাসককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’ একইভাবে ‘উজ্জীবন’ নামের আরেকটি সংগঠনও জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের প্রশংসা করে ব্যানার টাঙায়।

উজ্জীবনের সভাপতি মিল্টন ঘোষ বলেন, আমরা ২০০৪ সাল থেকে ডিসি হিলে নিয়মিত আসছি। ২০১৫ সাল থেকে আমি সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের মধ্যে কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী। প্রতিদিনের কাজের চাপ কমাতে আমরা সকালে এখানে হাঁটতে আসি। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক জেলা প্রশাসক এসেছেন, কিন্তু কেউ ডিসি হিলকে এভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেননি। বর্তমান জেলা প্রশাসক ব্যতিক্রম। প্রশাসনে থেকেও যিনি আমাদের মানসিক স্বস্তির জায়গাটির দিকে নজর দিয়েছেন, তাকে ধন্যবাদ জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শতায়ু অঙ্গনের সভাপতি রুস্তম আলী আক্ষেপের সুরে বলেন, আগেও অনেক ডিসি ছিলেন, কিন্তু কেউ করেননি। এই ডিসি করেছেন—এটাই বড় কথা।

ডিসি হিল চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই পাহাড়কে ঘিরে নগরবাসীর বহু স্মৃতি, ভালোবাসা ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। হাঁটাহাঁটি করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার পাশাপাশি সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যাওয়ার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয় এই ডিসি হিল।

ইংরেজ শাসনামলের শুরুর দিকে এখানে চাকমা রাজার বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের বাসভবন স্থাপিত হওয়ায় পাহাড়টি ‘ডিসি হিল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এর চূড়ায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি বাসভবনও রয়েছে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেওয়া এই প্রাথমিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ডিসি হিল অচিরেই আরও পরিকল্পিত, নিরাপদ ও নান্দনিক নগর উদ্যান হিসেবে গড়ে উঠবে।