সুপ্রভাত ডেস্ক »
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ শেষ পর্যন্ত পণ্য খালাস সম্পন্ন করেছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি এখন আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের অদূরে নোঙর করে আছে। জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, পণ্য খালাসের পর জাহাজটি নতুন বাণিজ্যিক গন্তব্য ভারতের মুম্বাই বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সে পথে এগোয়নি। আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ডের পরামর্শে জাহাজটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে ফিরে এসে শারজাহ বন্দরের জলসীমার বাইরে অবস্থান নেয়। বর্তমানে এটি শারজাহ বন্দর থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে বহির্নোঙরে নোঙর করে আছে।
গত ২৬ জানুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে প্রায় ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় বাংলার জয়যাত্রা। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে জাহাজটি ভিড়ে। কিন্তু এর মধ্যে ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। এমনকি জাহাজটি ভেড়ার একদিন পরই এটির মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়, যা জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়ে গত বুধবার তা সম্পন্ন হয়। পণ্য খালাসের পর জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে মুম্বাই যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। বুধবার গভীর রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রায় ৬৩ নটিক্যাল মাইল আগে পৌঁছালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেটিকে নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, হরমুজ প্রণালি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটায় জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে শারজাহ বন্দরের জলসীমার বাইরে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার, সুপেয় পানি এবং জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত এসবের কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। নাবিকদের নিরাপদে থাকার জন্য নিয়মিত নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েকটি জাহাজে ড্রোন বা মিসাইল হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি এড়িয়ে তারা শারজাহ বন্দরের অদূরে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, শেলিংয়ের মধ্যেও আমরা ভালো আছি। অনেকে কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও জাহাজ এখনো হামলার শিকার হয়নি। বলা যায়, আমরা এখনো বেঁচে আছি।
ক্যাপ্টেন জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ আটকে পড়ায় নাবিকদের পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সীমিত নেটওয়ার্কের মধ্যেও তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যা তাদের মানসিকভাবে সাহস জোগাচ্ছে।
এদিকে বাংলার জয়যাত্রাকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার করানোর জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিএসসি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং কোস্ট গার্ডের ছাড়পত্র মিললে জাহাজটি পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


















































