ছড়া ও কবিতা

ইচ্ছে জাগে

কাজী নাজরিন

ভাবছি বসে হতাম যদি
আকাশরাঙা পাখি
মনের সুখে যখন তখন
করতাম ডাকাডাকি।
ইচ্ছে জাগে পুষ্প হতে
কৃষ্ণচূড়ার মতো
থরে থরে রঙের বাহার
ফুটতো অবিরতো।
মনে বড়ো ইচ্ছে জাগে
প্রজাপতি হবো
ফুলের দেশে ঘুরেফিরে
মধুর কথা কবো।

 

পঁচিশের কালরাত

শচীন্দ্র নাথ গাইন

অপারেশন সার্চ লাইটের মানে
পাকির পোষা জল্লাদেরাই জানে।
পঁচিশে মার্চ ঠিক মধ্যরাতে
গোলাগুলির অস্ত্র নিলো হাতে।

গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সব লোকে
নির্মমতায় মারতে তাদের ঝোঁকে।
ছুঁড়তে থাকে গুলি তীব্র বেগে
শব্দ শুনে মানুষ ওঠে জেগে।

বুক ভাঙা সেই কান্না-আহাজারি
আর্তনাদে বাতাস হল ভারী।
হত্যা করার মিশন নিয়ে নামে
তাদের গতি সহসা কী থামে?

লক্ষ লোকের জান নিয়েছে কেড়ে
চলল ওরা ভীষণরকম বেড়ে।
বাড়ল বলেই ধ্বংস অবশেষে
স্বাধীনতার উঠল আলো হেসে।

 

 

সে ভাষণটি

অপু চৌধুরী

যে ভাষণটি আগুন ওড়ায়
চিকচিকে লাল লাল
শব্দকথার ফুলকি ছুঁড়ে
জলন্ত উত্তাল-

স্বাধীন হওয়ার মন্ত্র শোনায়
ঘুমন্তদের মাঝে
সে ভাষণের ধ্বনি এখন
বিশ্বজুড়ে বাজে।

যে ভাষণে ডাক শোনা যায়
শুদ্ধ হওয়ার পথে
মর্দিত লোক স্লোগান তোলে
রুষ্ট মনোরথে-

মুক্তি পাওয়ার শপথ নিয়ে
ঝাঁপ দিয়ে দেয় যুদ্ধে
সে ভাষণের কীর্তি রাখে
বিশ্ব নিজের শুদ্ধে।

সে ভাষণটির আগুন কণায়
সোহরাওয়ার্দীর মাঠে
তুলেছিলেন অগ্নিতুফান
শেখ মুজিবুর পাঠে।

 

 

সাতই মার্চের ভাষণ

বিভাস গুহ

একাত্তরের সাতই মার্চের
রেসকোর্সের ময়দানে
বজ্রকণ্ঠে ধ্বণিত হয়
জয় বাংলা শ্লোগানে।

সে ধ্বণিতে উঠল কেঁপে
পাক শাসকের আসন
ইতিহাসে অমর হলো
সেদিনের সেই ভাষণ।

সে ভাষণের শব্দে শব্দে
অগ্নিঝরা সুর
যায় ছড়িয়ে আকাশ বাতাস
নদী সমুদ্দুর।

ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ার
জানায় আহ্বান
সুরে সুরে গেয়ে ওঠে
স্বাধীনতার গান।

সেই গানেরই স্রষ্টা যিনি
নাম জানো কী তার
শেখ মুজিবুর কন্ঠে সবার
ধ্বণিত বার বার।

 

কোলাব্যাঙের কাণ্ড

সাদমান হাফিজ শুভ

ঝিরিঝিরি হাওয়ার তালে
নৌকো চলে দুলকি চালে
কোথায় চলে কই?
তালপুকুরে ওই,
দামাল ছেলে কামাল মিয়া
নৌকো বানায় কাগজ দিয়া
আনন্দে হইচই।

নৌকো দুয়েক ছাড়ল কামাল
একটা হঠাৎ হয় বেসামাল
কে মেরেছে ল্যাং?
দুষ্টু কোলাব্যাঙ,
একে-একে নৌকো দুটো
তুড়ি মেরে করে ফুটো
নাচে ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ।

নৌকো যে খায় হাবুডুবু
রাগে কামাল জুবুথুবু!
কী তার মনে চায়?
নালিশ করতে যায়,
নালিশ শুনে আসে চিলে
ব্যাঙটাকে সে গিলে-গিলে
আচ্ছা করে খায়!

 

চাঁদ মুখ!

শ্যামল বণিক অঞ্জন

চাঁদ হাসে খিলখিল
মিটি মিটি তারা
খোকনের মুখে বয়
জ্যোৎস্নার ধারা!
চাঁদ মুখ খোকনের
ঝলমল করে!
আধো আধো কথা বলে
বড় মায়া ভরে!
গুটি গুটি পায়ে হাঁটে
ঘর থেকে ঘরে
আঙিনায় স্বর্গের
সুখ যেন ঝরে!