অমর একুশ
ফেরদৌস জামান খোকন
একুশ এলে শহিদ স্মৃতি
মনে পড়ে আমার খুব,
ভাষার জন্য জীবন দিতে
যুদ্ধ মাঝে দিছে ডুব।
রফিক শফিক সালাম জব্বার
নাম না জানা শহিদ হয়,
বুকের ভিতর সাহস নিয়ে
বাংলা আপন করে লয়।
ফেব্রুয়ারি একুশ তারিখ
বেদনাময় একটি দিন,
বীর বাঙালি স্মরণ করে
দুখের বাজে করুণ বীণ।
একুশ এলে সন্তানহারা
মা’য়ের চোখে আসে জল,
নিজের ভাষায় কথা বলি
বুকে আসে আমার বল।
প্রভাতফেরি নগ্ন পায়ে
ছোট্ট বড়ো দেয় যে ফুল,
শপথ করে দেশের মানুষ
করবে না তো কভু ভুল।
বাংলা ভাষা
শ্যামল বণিক অঞ্জন
অ-আ- ই লিখি স্বরবর্ণ
ব্যঞ্জন বর্ণ খাঁটি যেন স্বর্ণ!
অ-তে অজগর আ-তে পড়ি আম
বর্ণের বন্ধনে গড়ি নিজ নাম।
ম- তে মা লিখি শিখি প্রাণ ভরে ডাকি
কণ্ঠে বাংলা সুরে ডাকে পাখি।
আলাদা সব্বার আছে নিজ ভাষা
মধুমাখা শ্রেষ্ঠ বাংলা এ ভাষা।
বাংলা প্রাণের ভাষা
ওয়াহিদ ওয়াসেক
একটা পাখি দুইটা পাখি
তিনটা পাখি আছে
রক্তমাখা ভরতি ফুলে
উদলা শিমুলগাছে!
পাশ দিয়ে যায় ফাগুন হাওয়া
মিষ্টি হেসে শাঁ-শাঁ
ফুল-পাখিরা বলল উঠে
বাংলা প্রাণের ভাষা!
কৃষকের যাপিত জীবন
মাসুম মোরশেদ
কাটা ধান সব শুয়ে শুয়ে আছে
সোনাফলা ঐ মাঠে
খানিকটা যাবে কৃষকের পেটে
বেশি যাবে তার হাটে।
ন্যায্যমূল্য যায় না পাওয়া
তবু দিতে হয় বেচে
সামান্য টাকা সার বীজ কিনে
ঋণ শোধে বাকি গেছে।
এভাবে পরম্পরা, ধারা বয়,
দাদা বাবা নাতি-পুতি,
কঙ্কালসার একটা জীবন
গামছা-লুঙ্গি-ধুতি…
বসন্তের প্রকৃতি
নকুল শর্ম্মা
ফুলের বনে মৌমাছিরা
করছে কানাকানি,
বসন্তের আজ রঙের খেলা
হলো জানাজানি।
নানান সাজে প্রজাপতি
ফুলের পরাগ মেখে,
এ ফুল ও ফুল যাচ্ছে ছুটে
একটু থেকে থেকে।
গোলাপ কলি ঘোমটা খোলে
দুলছে ছোট্ট ডালে,
চুমকুড়ি দেয় মিষ্টি দোয়েল
হাওয়ার তালে তালে।
রংবাহারি হাজার ফুলের
সুবাস আসে ভেসে,
প্রকৃতি তাই উঠলো সেজে
ফুল কুমারীর বেশে।
বর্ণমালার পাখি
সোমা মুৎসুদ্দী
ঝাঁক বেঁধে ঐ উড়ছে দেখো
বর্ণমালার পাখি
সকাল হতেই অ আা ক খ
করছে ডাকাডাকি।
সেই পাখিদের মুখে শুনি
বীর শহীদের গান
ভাষার জন্য কেমন করে
করলো জীবন দান।
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
শহীদ হলো ওরা
ওদের তরে শ্রদ্ধা জানাই
সাজাই ফুলের তোড়া।
রক্তমাখা একুশে
শচীন্দ্র নাথ গাইন
রাজপথে লাল খুন ঝরিয়ে প্রাণের ভাষা রাখা
সেই স্মৃতিটা হয় না মলিন, হৃদয়জুড়ে আঁকা।
অত্যাচারী রাজার হুকুম ভীষণ রকম কড়া
ভাবনা ছিল বাংলা ঠেলে উর্দুটাকে গড়া।
মায়ের ভাষা স্বপ্ন আশা থাকে না কেউ ভুলে
ভালোবেসে সাজায় তাকে মনবাগানের ফুলে।
ভাষার ওপর আঘাতকারীর যায় না করা ক্ষমা
ফুঁসতে থাকে বাঙালিরা ক্ষোভ শুধু হয় জমা।
প্রতিবাদে বীর জনতা ভেজে ক্রোধের ঘামে
রাজপথে তাই মিছিল নিয়ে লক্ষ মানুষ নামে।
মুহুর্মুহু শ্লোগান তুলে ভাঙলো পাষাণ নীতি
রাষ্ট্রভাষা রাখতে সবাই হারায় মরণ ভীতি।
লেলিয়ে দেওয়া দস্যুগুলো ছুঁড়তে থাকে গুলি
বুক সহসা ঝাঁঝরা হলো উড়লো মাথার খুলি।
আর্তনাদে বাতাস ভারী দেশটা ওঠে কেঁদে
চোখের জলের স্রোতোধারা যায় না রাখা বেঁধে।
অনেক ত্যাগের বিনিময়ে কঠিন পথে হেঁটে
রাষ্ট্রভাষা বাংলা পেলে প্রাণের দাবি মেটে।
সেই একুশের আগুন আজও বুকের মাঝে জ্বলে
কৃষ্ণচূড়ায় রক্ত মেখে ভাষার কথাই বলে।
একুশ মানে
কাজল নিশি
একুশ মানে স্মৃতি কথা
বোনের চোখের জল –
একুশ মানে বাংলা ভাষা
বিশ্বে সমুজ্জ্বল।
একুশ মানে ময়ের ভাষা
বাবার মুখের হাসি-
একুশ মানে হৃদয় রাজ্যে
বাংলা ভালোবাসি।
একুশ মানে বিশ্বমাঝে
ভাষার জন্য লড়াই –
একুশ মানে শহীদ বেদী
পদ্মা – মেঘনা, গড়াই।
একুশ মানে সালাম – রফিক
ভয় করেনি ভয় –
মৃত্যুকে তাই মুঠোয় করে
আনল ভাষার জয়।
বর্ণমালার বর্ণ প্রভাতফেরি
উৎপলকান্তি বড়ুয়া
বর্ণমালার বর্ণ রোদের সোনালী রঙটুকু
বর্ণমালার বর্ণ আলোয় আঁকা মায়ের মুখও!
বর্ণমালার বর্ণ সকাল বেলার কুটুম পাখি
বর্ণমালার বর্ণ খুশি আগলে বুকে রাখি।
বর্ণমালার বর্ণ বুকের ভালোবাসার সুর
বর্ণমালার বর্ণ সুখের আনন্দ ঝুরঝুর।
বর্ণমালার বর্ণ মায়ের মুখের প্রিয় বুলি
বর্ণমালার বর্ণ শোকে বায়ান্নের দিনগুলি।
বর্ণমালার বর্ণ হাসে কৃষ্ণচূড়ার ডালে
বর্ণমালার বর্ণ প্রভা পলাশ রাঙা লালে
বর্ণমালার বর্ণ লেখে বাংলা ভাষার গান
বর্ণমালার বর্ণ রফিক-বরকতেরই দান।
বর্ণমালার বর্ণ অতুল সাহস যুগভেরী
বর্ণমালার বর্ণ একুশ ভোরের প্রভাতফেরি
বর্ণমালার বর্ণগুলো স্বর্ণমালা হয়ে
রবে চির অম্লান ঠিক বাঙালির হৃদয়ে।
ভাষার মান
শামীমা জান্নাত শিউলী
ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ
ভাই হারানোর দিন,
ভাষার জন্য শহীদ হলে
ভুলবো না ঋণ।
তাজা বুকের রক্ত দিয়ে
রাখলে ভাষার মান,
তাইতো আজও বীর বাঙালি
গায় বাংলারই গান।
শহীদ স্মৃতি বুকের মাঝে
হাতে নিয়ে ফুল,
শহীদ মিনার শ্রদ্ধা জানায়
করে না তো ভুল।






















































