ভাষা
মজনু মিয়া
ভাষা ছাড়া কথা হয় না
কথা ছাড়া বোবা,
ইশারাটাও একটা ভাষা
বাড়ায় চোখের শোভা।
পাখির ঠোঁটে পাখির ভাষা
পশুর ভাষা ভিন্ন,
ভাষা ছাড়া পাবে না তো
সাড়াশব্দ চিহ্ন।
মানুষ মনের ভাব প্রকাশে
ভাষা যে তার চাই,
ভাষা ছাড়া জীব জন্তুর
বলার উপাই নাই।
মায়ের ভাষা
এবি ছিদ্দিক
বাংলা আমার মাটির ভাষা
মায়ের প্রথম বাণী
বাংলা আমার দাদার ভাষা
জন্ম থেকেই জানি।
বাংলা আমার মুখের ভাষা
দুঃখ তাপের কথা
বাংলা আমার গানের ভাষা
কাব্য লেখা যথা।
বাংলা আমার হাতেখড়ি
বর্ণমালার প্রীতি
বাংলা আমার মায়ের ছবক
প্রথম শেখার স্মৃতি।
আলামত
জোবায়ের রাজু
নাচছে নাতো বাবুইপাখি শীত জমেছে খুব,
দিচ্ছে নাতো দুষ্ট ছেলে দিঘির জলে ডুব।
বাড়ির পাশে পানকৌড়িরা খেলছে দলে দলে,
ফুলগুলো সব ঝরে আছে বৃক্ষদেবীর তলে।
উঠোন জুড়ে কুয়াশারা শুভ্র সফেদ রূপে,
সন্ধ্যাবেলায় মন কেড়েছে গন্ধ ভরা ধুপে।
ফোঁটা ফোঁটা রস জমছে মাটির হাঁড়িতে,
খেজুর রসের সিন্নি খেতে যাব বাড়িতে।
ভাঁপা পিঠার লোভে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় ভোরে,
মিষ্টি রোদের ছায়া পড়ে বন্ধ ঘরের দোরে।
গাছের পাতায় জমছে শিশির শীতল হল মাটি,
নকশিকাঁথায় অঙ্গ ঢেকে নিদ্রা পরিপাটি।
রোদ পোহাতে ভালো লাগে মনটা ভীষণ নাচে,
সবমিলিয়ে শীতের কাছে কত না ঋণ আছে।
ঠিকানা
অপু বড়ুয়া
ফাগুন এলে আগুন ঝরে
কৃষ্ণচূড়া শাখে
রক্তপলাশ কী সুখ তোমার
কষ্ট দিয়ে মাকে।
ভাষার জন্যে যুদ্ধে গিয়ে
ভাই আসেনি ফিরে
মা’র হৃদয়ে শোকের অনল
জ্বলছে ধীরে ধীরে।
সেই যে বাবা নিখোঁজ এখন
কষ্টে জড়ায় কথা
কোথাও কোনো নেই কলরব
শুধুই নীরবতা।
এদিক সেদিক খুঁজেই সারা
পাই না কোনোখানে
হায় রে তাদের আসল খবর
শহিদ মিনার জানে।
কোকিল পাখি
সুজন দাশ
কোকিল পাখি কোকিল পাখি
গান গেয়ে যাস থাকি থাকি
মিষ্টি মধুর সুরে,
গাইলে বসে গাছের ডালে
মন মজে যায় মুগ্ধ তালে!
তাকাই কাছে দূরে।
বসন্তে তোর আগমনে
পড়েও সাড়া বনে বনে
মাতাস কুহু তানে,
গাছে গাছে ফুলের শোভা
দেখতে লাগে মনোলোভা!
দিস ভাসিয়ে গানে।
দেখতে যতই হোসনা কালো
কন্ঠতে তোর আছে আলো
সবাই ভালোবাসে,
ডাকে সবাই চালাক পাখি
সুর ঢেলে গাস মেলে আঁখি
ফাগুন-চৈত্র মাসে।
পরিযায়ীর থাকিস বেশে
ঘুরে বেড়াস দেশে দেশে
দুর্দিনে যাস চলে,
এমন মধুর গানের গলা
বুঝিস ভালো শিল্পকলা
নিস আমাকে দলে।




















































