ছড়া ও কবিতা

রাত পোহানোর আগে

কুলসুম বিবি

দিনটা কাটে আলো ছায়ায় রাতে নামে কালো
রাতের সাথে ভাবটা আমার জমে যে খুব ভালো
আম্মু থাকে ঘুমের ঘোরে আব্বুরও নাক ডাকে
একলা আমি জেগে থাকি ঘুম রাজ্যের বাঁকে।

জানলার ফাঁকে উঁকি দিয়ে রাতের রূপটা দেখি
দূর আকাশের নীলে মিশে মনোকাব্য লেখি।
ঝিকিমিকি তারা জ্বলে বাঁকা চাঁদের হাসি
মনের ডানা ভর করে ওই নীল জোছনায় ভাসি।

ঝিঁঝিঁ পোকা সুরে সুরে বাঁশ বাগানের তলে
দুঃখ সুখের গান গেয়ে যায় মনের কথা বলে।
ঝোপের ধারে জোনাক পোকা নিবু নিবু জ্বলে
ফুলকলিরা হেসে হেসে ফোটে সমতলে।

ঘাসের মাঠে সোহাগ বাটে রাতের শিশির কণা
আমার সাথে ঘুমপরিদের হয় না বনিবনা।
হাসনাহেনা মাধবীরা সুবাস ছড়ায় বাগে
ভোরের পাখি ডেকে ওঠে রাত পোহানোর আগে।

 

মায়ের ভাষা

মাসুম মোরশেদ

আরবি পারি, হিন্দি পারি,
ইংরেজি টুকটাক,
বাংলা ভাষাও বিশ্বব্যাপি
যাক ছড়িয়ে যাক।

মায়ের ভাষায় বললে কথা
শান্তি পরম পাই
চাপিয়ে দেয়া কোনো ভাষা
মজা তাতে নাই।

বাংলা ভাষার জন্য গেছে
অনেক রক্ত প্রাণ
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা
তার বাড়াবো মান।

অন্য ভাষাও শিখতে হবে
বাড়বে তাতে জ্ঞান,
সব ভাষাকে মূল্য দেবো
জানাবো সম্মান।

 

 

যাদুর দেশে

শারমিন নাহার ঝর্ণা

ছোট্ট খুকি ঘুমের ঘোরে
রঙিন স্বপ্ন দেখে,
যাদুর দেশে পরির কাছে
মজার খেলা শেখে।

পরির হাতে যাদুর লাঠি
ঝিকিমিকি জ্বলছে,
যাদুর লাঠি ছুঁয়ে খুকি
পরীর মতো চলছে।

পরির মতো দুটি ডানা
খুকি পেয়ে হাসে,
যাদুর দেশে পরির বেশে
নীল আকাশে ভাসে।

 

 

কাঁপছে ওরা

অপু চৌধুরী

শীতের পীড়ায় কাঁপছে ওরা
দুঃখে খুকি মা‘কে
বললো ডেকে এমন শীতে
ফুটপাতে কেউ থাকে?

ওদের কি মা জ্বর হবে না
সর্দি কাশি ব্যথা?
শীতের চোটে অসুখ হলে
সারতে যাবে কে তা?

কখনওতো তাদের মতো
দাও না আমায় ছেড়ে
খেলায় খেলায় গেলে কোথাও
শাসাও মেরে মেরে।

তাদের কী মা নেই মা-বাবা
পিসি মাসী কাকাই
তাইলে কেনো রাতে তারা
থাকছে শীতের ঝাঁকায়?

তাদের যদি না থাকে কেউ
না থাকে ঘরবাড়ি
আমরাতো মা শীত ঠেকাতে
সহায় হতে পারি।

 

 

হিমের কন্যা ঘুঙুর স্বরে

সুজন সাজু

হিমের কন্যা ঘুঙুর স্বরে শিশির রাঙায় ঘাসে,
চোখ জুড়ানো ভাসে।
ডুমুর ডালে পাতার আড়ে
মাছরাঙাটি বারে বারে,
ঝাঁপিয়ে পড়ে দীঘির জলে
কী নান্দনিক দৃষ্টি কাড়ে।
রোদ ঝলোমল মিঠেল হাওয়া আলতো ছোঁয়া চুমে,
আলসে পরি ঠিক তখনি ফুল বিছানায় ঘুমে।
ফুলের কলি ঠোঁট রাঙিয়ে
দোলনা দোলে শাখে,
হিম শীতলে কুসুম বাগে ধবল ছবি আঁকে।
ঢেউয়ের খেলা পবন নায়ে
সর্ষে ফুলের ক্ষেতে
উৎসবে ঠিক মেতে,
ক্ষণ সকালে আকুল ঝরে
রোদের ছোঁয়া পেতে।
কিশোর ছোটে উদোম বিলে ইচ্ছে বরণ সাজে,
রূপের কারুকাজে।
শীতের পরশ সরস করে দিকের সবুজ দৃশ্যে,
প্রকৃতির এই পরিবেশটা অনন্যতায় শীর্ষে।

 

 

ফাগুন মাস

শাহানাজ শিউলী

​ফাগুন মাসে দিনগুলো সব
রক্ত-লালে ঢাকা,
নীল আকাশে মেঘের বুকে
মায়ের ছবি আঁকা।

​ফাগুন মাসে আছড়ে পড়ে
নদীর চোখের নীর,
রক্তজলে ভেসে ওঠে
লক্ষ হাজার বীর।

​ফাগুন মাসে ফুল-পাখিদের
মুখে ফোটে হাসি,
কালো গোলাপ রক্ত হয়ে
ফোটে রাশি রাশি।

​ফাগুন এসে রাঙিয়ে তোলে
শিমুল-পলাশ বন,
গহন বেদন মুছিয়ে দিয়ে
রাঙিয়ে তোলে মন।

​ফাগুন মাসে মায়ের ভাষা
আনল কেড়ে যারা,
তাদের দানে আজকে হাসে
লক্ষ কোটি তারা।

 

 

প্রথম বোলে

আনোয়ারুল হক নূরী

প্রথম বোলে মিষ্টি মধুর ডাকটা ছিল মা।
প্রথম যখন চোখ মেলেছি মায়ের বুকে পা।
প্রথম পেলাম জীবন রসের মায়ের দুধের বোঁটা।
মা জননীর বটবৃক্ষে ফুল হয়ে যে ফোটা।
একটু হাসির মিষ্টি ছোঁয়ায় হাসছি মায়ের বুকে।
কী অফুরান স্নেহ ছায়ায় বেড়ে ওঠা সুখে।
মা দিয়েছে মুখে মুখে শেখার আদর বুলি।
মা জননী শেখার ভুবন জীবন শিল্প তুলি।
তবুও মা হয়নি আজও আমার মাথার তাজ।
আবেগ মেঘে হারিয়ে যাওয়া সেই কি আমার কাজ?
না মাগো না, তোমার স্নেহের মিনার থাকুক বুকে।
সাত বাদশার ধন জননী রাখব সুখে দুখে।

 

 

ভাষার মিছিল

যাইদ আল মারুফ

টগবগিয়ে আসছে কারা
পথের মাঝে যাচ্ছে মারা
এমন করে দিচ্ছে কেন
সঁপে তাদের প্রাণ;
মাথায় কালো ঝান্ডা বেঁধে
মাখছে কিসের ঘ্রাণ?

ওটা হল ভাষার মিছিল
স্লোগানে তার হাসা
রক্ত দিয়ে কিনবে তারা
নিজের মাতৃভাষা।

কে সে তাদের রুখতে পারে
বুকে প্রবল ঝড়
ভাষার দাবি করতে আদায়
আয়রে স্লোগান র্ধর্।