আয় সকলে
জসীম মেহবুব
আয় সকলে সদলবলে ছোট্ট বেলায় যাই,
ছেলেবেলার পুকুরঘাটে সুর তুলে গান গাই।
পুকুরজলে ঝাঁপিয়ে পড়ে উল্টো সাঁতার কাটি,
আয় চলে আয় সবুজ গাঁয়ের মেঠোপথে হাঁটি।
ছেলেবেলার সঙ্গিরা কই আয় ছুটে সব সাথি,
আয় মশিউর, সুজন, হালিম খেলবো চড়ুইভাতি।
আয় ছুটে যাই নদীর পাড়ে খেলবো রে হাডুডু,
রাতে বসে ভাই-বোনেরা আয় খেলি সাপলুডু।
ওই শোনা যায় বাঁশবাগানে ডাহুক ছানা ডাকে,
আয় রে তোরা হাসনাহেনার গন্ধ আসে নাকে।
আয় যাবি চল মেলায় যাবো কিনবো বাঁশের বাঁশি।
ওই যে মেলায় ঘুরছে কেমন ঠাকুর পাড়ার মাসি।
ছোট্টবেলার এমন মজার আনন্দ হইচই।
আয় সকলে সবাই মিলে আয় খুঁজি পঁইপঁই।
ফুলখুকি
সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার
ভোর বিহানে পূব আকাশে
সূর্য দিলে উঁকি
লাজুক লাজুক চক্ষু মেলে
তন্দ্রালু ফুলখুকি।
ফুলখুকিদের রঙিন দলে
সূর্য কাটে বিলি
ছড়িয়ে পড়ে রৌদ্র মাখা
হাসি ঝিলিমিলি।
ফুলখুকিকে ঘিরে নাচে
চঞ্চলা মৌমাছি…
বলে, খুকি আমরা তোমার
বন্ধু হয়ে আছি।
ফুলখুকিদের কচি মুখে
মিষ্টি হাসি ফোটে
সে হাসিটার আলোর ঋণে
সূর্য মামা ওঠে।
শরতের বৃষ্টি
মোস্তাফিজুল হক
তুলো তুলো মেঘগুলো উড়ে উড়ে যায় দূরে,
বৃষ্টিটা নামলেই গান হবে সুরে সুরে।
ময়ূরের মতো আজ পুচ্ছটা মেলবই
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে নেচেগেয়ে খেলবই।
নেমে এলো রিমঝিম শরতের বৃষ্টি
রামধনু আঁকাআঁকি অনুপম সৃষ্টি
আয় তমা, আয় সোমা, আয় প্রিয় মৌসুমি
পায়ে বেঁধে আয় নাচি বৃষ্টির ঝুমঝুমি।
এই রিতা, মধুমিতা, ওই মেঘ ঝরছে,
রামধনু রং-সুখে কে রে তুলি ধরছে?
তা তা থই থই আনন্দ হইচই
রুমা বীথি গেলি কই? আয় তোরা আয় সই…
বৃষ্টিতে ভিজে আজ কী যে ভালো লাগছে
আমাদের মনে-প্রাণে আনন্দ জাগছে!
সা রে গা রে ধা নি ধা মা গা
গলা ছেড়ে গা রে সোমা গা…
শরতের দিন মানে মধুময় কৃষ্টি
জলে ভাসা হাঁসগুলো কেড়ে নেয় দৃষ্টি!
মেঘছানা
সজীব মালাকার
মেঘছানারা দলবেঁধে সব
খেলছে নীলাকাশে,
মেঘছানাদের মাম্মি, পাপাও
আছে আশেপাশে।
মেঘছানারা ঝরলে শুরু
বৃষ্টি গুড়ি গুড়ি,
সাথে মাম্মি, পাপা এলেই
বাড়ে বাহাদুরি।
তখন তারা সবাই মিলে
ঝড়ে মুষলধারে
থামে আবার মেঘছানাদের
ইচ্ছা অনুসারে ।
দুরন্ত এক কিশোর আমি
সাইফুল্লাহ্ কায়সার
আমার আছে উদার আকাশ
নীলের ছড়াছড়ি,
পাহাড়ঘেরা বনবনানী
সবুজ গড়াগড়ি।
আমার আছে সাগর নদী
ঢেউয়ের কলতান,
পাখির কলকাকলী আর
মধুর সুরে গান।
আমার আছে মধুর ভাষা
মন মাতানো সুর,
আপন মনে সুরের তালে
ছুটি সমুদ্দুর।
আমার চলা আমার বলা
এই প্রকৃতি জানে,
সবার কাছে আপন আমি
থাকি সবার প্রাণে।
দুরন্ত এক কিশোর আমি
মেঘের মতো ছুটি,
আগল ভেঙে পাগলা হাওয়ায়
করি লুটোপুটি।
বর্ষা বাদল রূপ
কাজল নিশি
টইটম্বুর ডোবা পুকুর
নদী ভরা জল
বৃষ্টি এলে ভিজতে থাকে
খোকা খুকুর দল।
ছন্দতালে টিনের চালে
বর্ষা বাদল রূপ
শব্দ তুলে নাচতে থাকে
টুপ টুপা টুপ টুপ।
মাকে ডেকে বলছে খোকন
নদীর পাড়ে যাই
আনবো ঘরে চিংড়ি পুটি
সত্যি যদি পাই।
সতর্কতা
সাইদুল ইসলাম সাইদ
ডেঙ্গুজ্বরে গ্রাম শহরে
কত যে প্রাণ যাচ্ছে,
জীবন কাটে বিষন্নতায়
ভয় জনগণ পাচ্ছে।
বাড়ির পাশে আবর্জনা
কিংবা গাছের ঝোপ
বাঁচতে হলে ছেঁটে ফেলে
মাটির করো খোপ।
দিনে যখন ঘুমাতে যাও
কিংবা ঘুমাও রাতে,
মশারীটা নাও টানিয়ে
তখন সাথে সাথে।
অলসতায় থাকলে ডুবে
জীবন হবে লাশ
প্রাণ পাখিটা যাবে চলে
দেখবে সে আকাশ।
আবার আমি কিশোর হব
জোবায়ের রাজু
আবার আমি কিশোর হব
সুযোগ আসে যদি,
মাঝ দরিয়ায় কাটব সাঁতার
ইচ্ছে নিরবধি।
বাড়ির পাশে বিশাল মাঠে
খেলব ফুটবল,
দেখবে সবাই এই যে আমি
কতটা চঞ্চল।
বনে গিয়ে উঠব আমি
গাছের মগডালে,
মই বেয়ে উঠে যাব
টিনের ঘরের চালে।
বাঁশবাগানের ভুতগুলোকে
মারব জোরে ঢিল,
দৈত্য যদি গরমিল করে
দেব একটা কিল।
আলাদিনের জাদুর চেরাগ
যদি পেয়ে যাই,
কিশোরবেলার দিনগুলোতে
ফিরে যেতে চাই।