সুপ্রভাত ডেস্ক »
সরকার থেকে বার্তা গেলে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার সকালে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে এক অংশগ্রহণকারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিটাগাং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, “আমরা বাংলাদেশের জনগণ রুট লেভেলে একটা প্রবলেম ফেইস করতেছি। সেটা হচ্ছে চাঁদাবাজি। আমরা ছোটখাটো ব্যবসা করতে যাই বা নতুন ঘরবাড়ি বানাতে যাই, আমাদেরকে চাঁদাবাজির প্রবলেমটা ফেইস করতে হয়। আপনি কীভাবে এই প্রবলেমটা সলভ করবেন।”
উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “আমরা যেই প্ল্যানই করি না কেন, কোনো ইস্যু সাকসেসফুল হবে না যদি আমরা দুটো ইস্যুকে অ্যাড্রেস না করি। একটা হচ্ছে আপনি যে ইস্যুটা বললেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। মানুষের নিরাপত্তা। এটা যদি এনশিওর করতে না পারি আমরা এবং একইসাথে করাপশনকে যদি আমরা অ্যাড্রেস করতে না পারি, তাহলে আমরা যত যাই প্ল্যান করি, হবে না।
“দ্বিতীয় বিষয়টা হচ্ছে, যারা করছে এসব কাজ, সেটাকে আমরা হয়ত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা হচ্ছে ব্যক্তি। সমস্যার সাথে সম্পর্কিত এরকম কিছু মানুষ এটার সাথে জড়িয়ে গিয়েছে। তার কিছু ইনকাম দরকার। জোর দিয়ে সে ইনকামটা করতে চাইছে।
“আরেকটা হচ্ছে প্রফেশনাল ক্রিমিনাল যারা। তারা এটা করতে চাচ্ছে। তো প্রফেশনাল ক্রিমিনাল যারা, তাদের ক্ষেত্রে আইন অ্যাপ্লিকেবল হবে।”
দুর্নীতির সমস্যা বিভিন্নভাবে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে আছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা যে রাতারাতি সবকিছু করে ফেলতে পারব, নট দ্যাট। আমি মনে করি একটা গভার্নমেন্টের মেসেজিং অনেক ক্ষেত্রে অনেক জিনিসকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারে।
“গভার্নমেন্ট থেকে যদি বার্তা যায়, উই উইল নট টলারেট দিস। তারপরও গভার্নমেন্টের বিভিন্ন প্রিকশন বা স্টেপস থাকবে। কিন্তু যখন মেসেজিং যাবে যে আমরা করাপশন টলারেট করব না, অটোমেটিক কমপক্ষে ২০-৩০ শতাংশ কমে যায় সমস্যাটা।”
‘সুযোগ পেলে অবশ্যই চেষ্টা করব’
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী জিয়ান বলেন, “অনেকগুলো পরিকল্পনা আপনারা হাতে নিয়েছেন। পরিকল্পনাগুলো কি শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তবায়ন করবেন। দলের পলিসিগুলো বাস্তবায়ন কীভাবে এনশিওর করবেন?”
উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “দেখুন, আমরা তো একটা পলিটিক্যাল পার্টি। আমি আজকে বললাম একটা, কিন্তু করলাম না। পরশু দিন তো আপনি আমাকে ধরবেনই। আপনি যদি এবার আমাকে ভোট দেন, পরেরবার ভোট দেবেন না। ব্যাপারটা তাই না? তো আমার বেনিফিটটা কি?”
তিনি বলেন, “আপনাকে আমি যে কমিটমেন্টগুলো করলাম, আমি মনে করি আপনি যদি দেখেন যে হ্যাঁ তারেক রহমান এবং তার দল বা সরকার কাজগুলো করার চেষ্টা করছে। হয়ত হান্ড্রেড পারসেন্ট সফল হচ্ছে না কিন্তু চেষ্টা করছে, তখন কিন্তু আপনি আমার পাশে থাকবেন। অন্তত আমি চেষ্টা করেছি।
“আর আমি যদি না করি, সেটাও আপনি বুঝতে পারবেন। না করলে তো আপনার সাপোর্টটা আমার থেকে চলে যাবে। একটা পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে কেন আমি আপনার সাপোর্টটা হারাব? সুযোগ পেলে আমি চেষ্টা করব অবশ্যই।”
‘আমরাও সহজে এনআইডি চাই’
মাহমুদুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বার্থ সার্টিফিকেট, আইডি কার্ড, পাসপোর্ট করতে ঝামলো হয়। আপনি যেভাবে সহজে করতে পেরেছেন, আমরা সেভাবে করতে চাই। আইডির ছবি দেখে বাইরে দেশে জানতে চায় আমাদের দেশে কোনো দুর্ভিক্ষ লেগেছে কিনা? এসব কার্ডের ভুল সংশোধন করতে করতে আমাদের জীবন চলে যাচ্ছে।”
উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “আমি স্বীকার করছি, আমার পক্ষে খুব ইজি হয়েছে কাজটা করতে। প্রসেস ইজি করতে হলে যত ডিজিটালাইজ করতে পারব, তাহলে ঘরে বসে করতে পারব কাজটা। পুরো সিস্টেমটাকে কারেকশান করব। অনেককে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চট্টগ্রামে ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডয়িা সেল
“আমার এনআইডি করার পরে সোশাল মিডিয়াতে জোক দেখলাম, আমার নাম তারেক, লিখে দিয়েছে আমি বারেক- এরকম একটা। ডিজিটালাইজ করতে পারলে সমস্যাটা অনেক কমবে।”
‘১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী, স্কুলে অডিও ভিজুয়াল কানেক্টিভিটি’
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আফতাব আহমেদ তামিম বলেন, “লন্ডনে গত ১৭ বছর আপনি সেখানকার হেলথ কেয়ার সিস্টেম দেখছেন। সেখানে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিস্টকে খুব গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশে সেভাবে দেয়া হয় না। আপনাদের পরিকল্পনা কি?”
উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম মেডিকেলে সক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি রোগী ডিল করতে হয়। গ্রামভিত্তিক ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করব। তারা গ্রামের বাড়ি বাড়ি যাবেন। এতে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছাবে।
“এই কর্মীদের ৮০-৮৫ শতাংশ নিয়োগ করা হবে নারী। বলতে পারতাম অনেক স্পেশালাইজড হসপিটাল করব। কিন্তু এতে অনেক সময় চলে যাবে। তার আগে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গেলে অনেক হেলথ ইস্যু অ্যাড্রেস করা যাবে।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে বেসিক বিষয়ের শিক্ষক থাকে না। আপনি বলছেন, থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাবেন। সেখানে তৃতীয় ভাষা কিভাবে শেখাবেন?”
উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “আশির দশকে ক্লাসরুমগুলোতে অডিও ফ্যাসিলিটি ছিল। তখন রেডিও প্রোগ্রামগুলো হত নানা বিষয়ে। আমরা এই ফ্যাসিলিটি করতে চাই, স্কুলগুলোতে অডিও ভিজুয়াল কানেক্টিভিটি।
“তাহলে চট্টগ্রামের একজন ভালো শিক্ষকের ক্লাস দিনাজপুরের একজন শিক্ষকের ক্লাস পাবে। সাউথ কোরিয়া পেরেছে। আমরা শুরু করব। হয়ত সময় লাগবে। আপনারা চালিয়ে নেবেন।”
চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে।



















































