চবিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা

সুপ্রভাত ডেস্ক »

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে শোভযাত্রা শেষে উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা হয়েছে।

এ দিবস উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার পাশাপাশি কালো পতাকা উত্তোলন এবং সর্বস্তরে কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহইয়া আখতার বলেন, “ভাষা শহীদদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, কারণ আমরা এখনো আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বাড়ছে এটি আমি নিন্দা করি না, তবে বাংলা ভাষার গুরুত্ব আরও বাড়াতে হবে। আমাদের ভাষা জাতিসংঘ পর্যন্ত স্বীকৃতি পেয়েছে, কিন্তু আমরা তা বিশ্বে যথাযথভাবে ছড়িয়ে দিতে পারিনি।”

উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, পৃথিবীতে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ভাষা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা ষষ্ঠ ভাষা। অনেক ভাষা আজ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সব জাতিগোষ্ঠীর উচিত নিজ নিজ ভাষা সংরক্ষণ করা।

“এ ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষায়ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রেরণার উৎস। এ দিনটি আমাদের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে শিখিয়েছে। ভাষা শহীদদের অতীতের ত্যাগ আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়। আমরা ২১ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে তা বহাল রাখব। আমাদের ভাষা সমৃদ্ধ, এটিকে আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “১৯৫২ থেকে ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সব আন্দোলনের ত্যাগীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যাদের জন্য আমরা আজ এই মুহূর্ত পেয়েছি। সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ আমাদের বিভক্ত করেছিল। বাংলা ভাষাকে দমিয়ে অন্য ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু আমরা তা মেনে নেইনি।

“অসংখ্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলা ভাষার অধিকার অর্জন করেছি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, এ ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।”