চট্টগ্রামে ‘এস ড্রাইভে’ গ্রেপ্তার ৬৫, ‘আগাম ঘোষণা’ কৌশল বলছে পুলিশ

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রাম নগরীতে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জুয়া ও কিশোর গ্যাং কার্যক্রম দমনে বিশেষ ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান পরিচালনা করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে নগরের ১৬টি থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১৩ জন, সদরঘাটে ৩ জন, চকবাজারে ৪ জন, বাকলিয়ায় ৩ জন, খুলশীতে ২ জন, বায়েজিদে ৮ জন, পাঁচলাইশে ৩ জন, চান্দগাঁওয়ে ৬ জন, পাহাড়তলীতে ১ জন, আকবরশাহে ২ জন, ডবলমুরিংয়ে ৫ জন, বন্দরে ১ জন, ইপিজেডে ৪ জন, পতেঙ্গায় ৮ জন এবং কর্ণফুলীতে ২ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলায় ৫ জন, ছিনতাইকারী ৪১ জন, চাঁদাবাজ ৫ জন, জুয়াড়ি ২ জন এবং কিশোর গ্যাংয়ের ১২ সদস্য রয়েছেন। অভিযানে একটি দেশীয় এলজি, তিনটি ছোরা, শর্টগানের ১২টি কার্তুজ, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ছুরি, তিনটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে সর্বমোট ৪৬৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে ১০০ পিস, বায়েজিদ থানা এলাকা থেকে ১৪ পিস, বন্দর থানা এলাকা থেকে ৪৭ পিস পরিত্যক্ত অবস্থায়, ইপিজেড থানা এলাকা থেকে ২০০ পিস এবং পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে ১০৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, একযোগে অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি স্থানে হানা দিলে যাতে অন্য স্থানে থাকা অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে। সে কারণে ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

সম্প্রতি একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নগরবাসীর মনে যে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। তা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে, রোববার রাতে অভিযানের আগে সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

তবে এ বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, সিএমপির ঘোষণা দিয়ে অভিযানের বিষয়ে যারা সমালোচনা করছেন বা ভুল বুঝেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এটি এক ধরনের কৌশল। অপরাধীরা আগেই অভিযানের বিষয়ে জানলে তারা স্থান পরিবর্তন কিংবা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে। এতে পুলিশের পক্ষে তাদের সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদেরকে গ্রেপ্তার এর জন্য ট্র্যাক করার নতুন পথ উন্মুক্ত হবে। আমরা আমাদের এই কৌশলে প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছি। শিগগিরই সফলতা পাবো ইনশাআল্লাহ।